দাড়ি আল্লাহর একটি মহান ও বড় নেয়ামত। দাড়ি দ্বারা তিনি পুরুষকে অনুগ্রহ করেছেন এবং নারী জাতি থেকে তাকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছেন। দাড়ি যথাযথভাবে রেখে এবং তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে সম্ভব।
ইসলামি শরিয়তের সবকিছুই পবিত্র কোরআন ও হাদিসের ওপর নির্ভরশীল। পবিত্র কোরআনে যা কিছু বলা হয়েছে তার সবকিছুই মহান আল্লাহর তরফ থেকে এসেছে আর মহান আল্লাহর সব আদেশই ফরজ আর যা হাদিসের মাধ্যমে এসেছে তা কিছুসময় ওয়াজিব আবার কিছু সময় সুন্নত।
ওয়াজিব হচ্ছে সেসব কাজ যেগুলো করার প্রতি রাসূল (সা.) এর আদেশ রয়েছে বা যেগুলো পালন করার প্রতি বেশি জোর দেয়া হয়েছে আর সুন্নত হচ্ছে মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) যা করতেন সেসব কাজ। একজন মুসলিম হিসেবে সবকিছুই মুসলমানদের করণীয়। কারণ পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন সুরায় মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে ইমানদারগণ, আল্লাহ ও তার রসুলের নির্দেশ মান্য কর। শোনার পর তা থেকে বিমুখ হয়ো না।’ (সুরা আনফাল ২০)
সুরা হাশরের একটি আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘রসুল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।’ (সুরা হাশর ৭)
হাদিস শরিফে হযরত আয়েশা রা. বর্ণনা করেছেন, রসুলে পাক (সা.) বলেছেন, দশটি বিষয় সব নবী-রসুলগণের সুন্নাত। তার মধ্যে গোঁফ ছোট করা এবং দাড়ি লম্বা করা অন্যতম। (মুসলিম শরিফ: ১/১২৯) এ আয়াত থেকে বোঝা যায় যে নবীর সুন্নাত হিসেবে দাড়ি রাখার গুরুত্ব অনেক।
সুন্নত অনুসারে দাড়ি রাখার নিয়ম
সুন্নাত অনুযায়ী দাড়ি রাখা মানে হলো দাড়ি এক মুষ্টি বা চার আঙ্গুল পরিমাণ লম্বা রাখা এবং মোচ ছোট রাখা। রাসূল (সা.) যেমন দাড়ি রাখতেন, সাহাবীরাও রাখতেন, তাই এ নিয়ম অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
দাড়ি রাখার নিয়মাবলী
দৈর্ঘ্য: কমপক্ষে এক মুষ্টি বা চার আঙ্গুল লম্বা রাখতে হবে।
গোঁফ: মোচ বা গোঁফ ছেঁটে ছোট করতে হবে।
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা: দাড়ি খিলাল (আঙ্গুল দিয়ে আঁচড়ানো) করা এবং পরিষ্কার রাখা সুন্নাতের অংশ, যা রাসূল (সা.) করতেন।
দাড়ি রাখার গুরুত্ব
ইসলামের নিদর্শন: এটি মুসলিম পুরুষদের একটি বিশেষ চিহ্ন ও পরিচায়ক।
নবীর তরিকা: এটি নবী (সা.) ও অন্যান্য নবীদের সুন্নাত।
ওয়াজিব: দাড়ি রাখা ওয়াজিব বা অবশ্য পালনীয়, এবং এটি কামানো কবিরা গুনাহ।





