১৯৭৫ সালে সিপাহি জনতার অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। পরবর্তী রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। ১৯৭৯ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করে তার দল। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচনের মাধ্যমে আবারো সরকার গঠন করে দলটি।
রাজনীতি সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন, জনপ্রিয় ও বিশ্বাসযোগ্য দল হিসেবে এ সুবিধা পেয়েছে বিএনপি। জনগণের সঙ্গে বিএনপি প্রতারণা করেনি এমন দাবি করে দলের যুগ্মমহাসচিব বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর জনগণের সঙ্গে থেকে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করেছে, জেল খেটেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছে বলে দলটি চব্বিশের অভ্যুত্থানের ফসল ঘরে তুলতে পেরেছে বলে মনে করেন তিনি।
বিএনপির যুগ্মমহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, ‘হাসিনার স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমরা জেল খেটেছি। আমরা রক্ত দিয়েছি, জীবন দিয়েছি কিন্তু আমরা লড়াই থেকে সরে যাইনি। আমাদের ওপর অনেক অত্যাচার হয়েছে। অনেক ভাইকে হারিয়েছি। আমরা থেমে যাইনি। ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশনে জনগণ ভোট দিতে পেরেছে এবং ফলটা বিএনপির পক্ষে এসেছে। কারণ বিএনপি সবসময় জনগণের পক্ষে ছিল, কখনো জনগণের সেন্টিমেন্টের বাইরে যায়নি।’
১৯৭৫ সালে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম, সংবাদপত্রের কণ্ঠ রোধের কারণে আওয়ামী লীগের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে জনগণ। এ কারণে ভোটের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতি বার বার এদেশের মানুষ আস্থা রেখেছে বলে মনে করেন প্রবীণ রাজনীতিবিদরা।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবদিন ফারুক বলেন, ‘খালেদা জিয়া রাজনীতিতে অভ্যুত্থানের পর পর গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের যে আস্থা সেটা জন্মাতে পেরেছে। শহিদ জিয়ার আদর্শ, কর্মের ওপর ভিত্তি করে তা হয়েছে। আবার খালেদা জিয়ার কর্মের ওপর বাংলাদেশের মানুষ এত খুশি হয়েছেন, আস্থা রেখেছেন যে নান ষড়যন্ত্রের পরও ২০০১ সালে তিনি সরকার গঠন করতে পেরেছেন।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, ১৯৭৫, ১৯৯০, ২০২৪ সালের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও প্রতিবারই লাভবান হয়েছে বিএনপি। মূলত ৭৫ সালে সেনাবাহিনী ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয় জিয়াউর রহমানের। ৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে খালেদা জিয়া পরিণত হন আপোসহীন নেত্রীতে। ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে পর আবারো রাজনীতির ময়দানে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য দল হিসেবে আবির্ভূত হয় বিএনপি।
সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু সাঈদ খান বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর আর কোনো গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক দল ছিল না। কারণ দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক বিরোধী দল হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। তো আওয়ামী লীগের পতনের পর একমাত্র গ্রহণযোগ্য দল হচ্ছে বিএনপি। আর বিরোধী দল হচ্ছে জামায়াত। তো জামায়াতে ইসলামীর ৭১ সালের বিতর্কিক অবস্থানের কারণে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।’
বিএনপি বারবার সরকার গঠন করলেও জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে বারবারই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সে কারণে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে সরকার পরিচালনা ও দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী রাখতে বিএনপিকে কৌশলী হবার পরামর্শ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।





