আজ (শুক্রবার, ৩ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় রাজধানীর ভাটারার একটি স্থানীয় মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত ওয়ার্ড দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের উপস্থাপনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মূসা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দীন মানিক ও ইয়াছিন আরাফাত, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য জামাল উদ্দিন ও মু. আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ।
আরও পড়ুন:
এটিএম আজহার বলেন, ‘জুলাই সনদ জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত হয়েছে। এজন্য দীর্ঘ সময় সকল রাজনৈতিক দলের সাথে কথা বলে তা প্রস্তুত করা হয়েছে। একই অর্ডারে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও শুধু গণভোট নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। যা সরকারের আদর্শিক দেউলিয়াত্ব ছাড়া কিছু নয়। মূলত, পতিতদের আদলে ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার হীন মানসিকতা থেকেই সরকার অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে গণভোট নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। কিন্তু জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে অতীতে কোন ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের শেষ রক্ষা হয়নি, আর কারো হবেও না।’
এসময় তিনি সময় থাকতে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে অবিলম্বে জুলাই সনদ পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহবান জানান।
তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদে সংবিধান সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংশোধনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যা জুলাই বিপ্লব ও জুলাই চেতনার সাথে মোটেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। মূলত, সরকার এখন জনগণের সাথে রীতিমত প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু তাদের মনে রাখা উচিত ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক চরিত্র নিয়ে ক্ষমতায় থাকার দিন শেষ হয়েছে।’
তিনি সরকারকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘জনআস্থার অংশ হিসেবে গত নির্বাচনে ব্যাপক ভোট বিপ্লব হয়েছে। কিন্তু ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জনতার রায়ের পুরোপুরি প্রতিফলন ঘটতে দেওয়া হয়নি। তারপরও জামায়াত এককভাবে ৬৮ আসনে বিজয়ী হয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা যদি ভোগের মানসিকতা বাদ দিয়ে ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে আমরা কাজ করি তাহলে জনগণ আমাদেরই বেছে নেবে।’
তিনি শাহাদাতের তামান্নায় উজ্জীবিত হয়ে দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে সকলকে ময়দানে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান। সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘সরকার জুলাই সনদ অস্বীকার করে গণবিরোধিতায় লিপ্ত হয়েছে। কারণ, ৪ কোটি ৮০ লাখ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়ে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে স্বতঃস্ফূর্ত রায় প্রদান করেছে। তাই জনগণ বিনা চ্যালেঞ্জে সরকারকে ছেড়ে দেবে না বরং দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাধ্য করবে।’




