জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলো ইউট্যাব

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছে ইউট্যাব
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছে ইউট্যাব | ছবি: এখন টিভি
0

শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত, পুষ্পার্ঘ অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)। আজ (শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে তাদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ইউট্যাবের প্রেসি‌ডেন্ট অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মাতা, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় ঐক্যের প্রতীক ও আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আমাদের ছেড়ে আল্লাহর ডাকে চলে গেছেন। এটি বাংলাদেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। কেননা তি‌নি এমন একজন নেত্রী, যিনি এ দেশের জন্য তার সবকিছু হারিয়েছেন। তিনি হারিয়েছেন তার স্বামী, সন্তান, বাড়ি।’

তিনি বলেন, ‘তিনি পাঁচবার জেলের খাটে শুয়েছেন। চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত ছিলেন। ডাক্তাররা বলেছিলেন, তাকে দেশের বাইরে চিকিৎসা না করালে তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এরপরও তিনি বাংলাদেশের বাইরে কোথাও যাননি। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের বাইরে আমার এক ইঞ্চি জমি নাই, এক ইঞ্চি মাটি নাই। এই দেশের মাটিই আমার জায়গা, এ দেশের মানুষই আমার সন্তান। সেরকম একজন দেশপ্রেমিক নেত্রী আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় ক্ষতি।’

আরও পড়ুন:

তি‌নি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রের লড়াইয়ের জন্য, মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য তিনি আজীবন লড়াই করেছেন। আপসহীন নেত্রী হিসেবে তিনি আখ্যায়িত হয়েছেন। আজ তিনি বাংলাদেশের জনগণের জন্য এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন, কিন্তু বাংলাদেশের গণতন্ত্র ফিরে আসা দেখে যেতে পারলেন না, এটা আমাদের কষ্ট। আমরা আশা করি আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করবেন। আমরা প্রার্থনা করি এবং আশা করি তার স্বপ্ন বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হবে। বাংলাদেশের ডেমোক্রেসি ফিরে আসবে এবং আগামী দিনে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের আর উত্থান হবে না।’

ইউট্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, ‘ইউট্যাব আমাদের গণতন্ত্রের মা নিজ হাতে সিগনেচার করে ২০১২ সালে অনুমোদন দিয়েছিলেন। তখন থেকেই এ সংগঠনটির যাত্রা শুরু। তিনি তখন বুঝতে পেরেছিলেন, শহিদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী একটি শিক্ষক সংগঠন হওয়া উচিত। কারণ আমাদের দলে নানা মতের লোক ছিলেন, কিন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী এবং শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী সংগঠন গড়ে তোলার প্রয়োজন ছিল। তিনি সেটি অনুমোদন করেছিলেন ২০১২ সালে, এরপর ইউট্যাবের যাত্রা শুরু হয়।’

বড় বড় আন্দোলনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ইউট্যাব তার পাশে ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ম্যাডামের যে ত্যাগ, সেই ক্ষতিপূরণ আর কেউ দিতে পারবে না। ম্যাডাম আমাদের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গেছেন। তার বিনিময়ে আমরা গণতন্ত্র অর্জনের পথে এগিয়ে এসেছি। সামনে নির্বাচন—আমরা চাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী দল, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিজয়ী হয়ে দেশ সেবার সুযোগ পাক। আমি আমার চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ সুন্দর কামনা করছি।’

এসময় ইউট্যাবের ‌কোষাধ্যক্ষ ও ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যালয় (ঢাবি) সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, ঢাবি সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমানসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

এসএইচ