Recent event

জামায়াতে ইসলামের নির্বাচনি ইশতেহার: শিক্ষা ও নারী নিরাপত্তায় জোর, দুর্নীতিকে লাল কার্ড

জামায়াতে ইসলামীর লোগো
জামায়াতে ইসলামীর লোগো | ছবি: জামায়াত
2

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় ইশতেহার তৈরিতে অনলাইনে জনমত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ইশতেহারে দলটি শিক্ষা, নারীর কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিয়েই ইশতেহারে দুর্নীতিকে লাল কার্ড দেখানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছে জামায়াত নেতারা।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। সামনে জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিজয়ী দল কেমন বাংলাদেশ গড়বে, সে প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। দেশের রাজনীতি কোন পথে হাঁটবে, আর ভবিষ্যতের গতি কোন দিকে ছুটবে, তার উত্তর জানতে অপেক্ষায় মানুষ।

এমন প্রেক্ষাপটে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দল জামায়াতে ইসলামী। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলটির নির্বাচনি ইশতেহার চূড়ান্ত প্রায়। পুরানো ছকে ইশতেহার সাজানোর পথে না হেঁটে ভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছে জামায়াত।

আগামী দিনের বাংলাদেশ কেমন হবে, সেই রূপরেখা নির্ধারণে ভোটারদের সরাসরি যুক্ত করতে অ্যাপ চালু করেছে দলটি। দেশ গড়ার পরিকল্পনায় অংশীদার হতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতের আমির।

আরও পড়ুন:

এছাড়া তরুণ প্রজন্মের ভাবনা ও প্রত্যাশা জানতে চালু করা হয়েছে জেন-জি জিজ্ঞাসা। এই প্ল্যাটফর্মে তরুণরা সরাসরি প্রশ্ন তুলতে পারছেন রাষ্ট্র, রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে।

এদিকে জামায়াতের খসড়া ইশতেহার সম্পর্কে জানতে চাইলে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ জানান, শিক্ষা সংস্কার, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন এবং বেকারত্ব দূরীকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ। সে বাংলাদেশ হবে বেকারত্ব মুক্ত, বৈষম্যহীন। সেখানে প্রায়োরিটি পাবে যেটি তা হলো দুর্নীতি নির্মূল করার জন্য আমরা কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছি। আগে নিজেদের আমরা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার আওতায় আনবো।’

পাশাপাশি ইশতেহারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও টেকসই একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয়া হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়াও, নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষিবান্ধব নীতি, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, নারীর কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘দিনমজুর এবং জেলে, কৃষক তাদের জন্য আমরা ফ্যাসিলিটি বাড়াবো। গৃহিনীদের জন্য আমরা প্রণোদনা রাখবো।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী নির্বাচন অন্য সব নির্বাচন থাকে ভিন্ন। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথ দেখাতে হবে ইশতেহারে। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কিভাবে কাজ করবে সরকার সে ব্যাপারেও স্পষ্ট অবস্থান জানতে চায় মানুষ। তা না হলে পুরানো ব্যবস্থারই পুনরাবৃত্তি দেখা যাবে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘প্রথম ছিলো আমরা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। দ্বিতীয় সংস্কার এবং বিচার এই দুইটা ইশতেহারে আসা দরকার ছিলো বলে আমি মনে করি। বিপ্লবকে ধারণ করার জন্য যে জাতীয় ইশতেহার আমি আশা করেছিলাম সেটা আমি দেখলাম না।’

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নির্বাচনি ইশতেহারে গৎবাঁধা প্রতিশ্রুতি না দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সংস্কার ও বিচারের সময়সীমা এবং তরুণদের চাওয়াকে গুরুত্ব দেবার আহ্বান রাষ্ট্র চিন্তকদের।

ইএ