জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনীতির ময়দানে সবচেয়ে বেশি আলোচনা জাতীয় নির্বাচন নিয়ে। হাসিনা সরকারের আমলে তিনটি বিতর্কিত ভোটের পর নতুন পরিস্থিতিতে সময় ও পদ্ধতি নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও নির্বাচন চায় সব দল।
বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গে বিএনপির মতপার্থক্য যখন স্পষ্ট হচ্ছে তখন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সদস্য নবায়ন কার্যক্রমে একথা বলেন তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কোনো তাল বাহানা করবেন না। আমি সরকারকে বলছি না, আমি বলছি সরকারকে বিভ্রান্ত করার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিভিন্নভাবে নির্বাচন নিয়ে কথা বলছেন। এভাবে তারা এই সরকারকে অস্বস্তির মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন। আমরা এই সরকারকে বলতে চাই আপনারা ডিসেম্বরে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন সেসময়ই নির্বাচন দেন।’
এদিকে, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আয়োজিত সমাবেশে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করলেও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র মেনে নেবে না তার দল।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘যখন অন্তর্বর্তী সরকার সুনাম অর্জনকারী ড. ইউনূস বাংলাদেশে নভেম্বর-অক্টোবরে একটা নির্বাচন দেয়ার কথা বলা শুরু করলেন তখনই আপনাদের মুখে শুনতে পাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা। এটা কীসের ইঙ্গিত?’
একইদিনে রাজধানীতে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবসের সমাবেশে, সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান বিএনপির আরেক নেতা আমানউল্লাহ আমান।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘আমি আশা করি জলদি নির্বাচন দিয়ে জনগণের নির্বাচিত সরকারের কায়েম হবে এবং জনগণ এই সরকার পরিচালনা করবে। এটাই জনগণের প্রত্যাশা। সেই অনুযায়ী সরকার কাজ করছেন আমরা তাদের সাহায্য করতে চাই।’
দ্রুত নির্বাচনের আয়োজনের মাধ্যমে চলমান সংকট দূর করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতার কথা জানান দলটির নেতারা।