আজ (শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ছাত্রশিবিরের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে নোয়াখালী জেলার শহর শাখার আয়োজন ইবনে আউফ কমার্স কার্নিভাল-২৫ পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, 'গেল সাড়ে ১৫ বছর ধরে ছাত্রশিবিরকে ক্যাম্পাসে কার্যক্রম পরিচালনার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি, এমনকি মাদরাসাগুলোতেও তাদের স্বনামে দাওয়াত দেওয়ার পথ রুদ্ধ করা হয়েছিল। ছাত্রসমাজ থেকে দূরে রাখতে ছাত্রশিবিরের নামে নানান রকম মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে তাদের নেগেটিভ চরিত্রের সংগঠন হিসেবে উপস্থাপন করার অপচেষ্টা করা হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা বাসা থেকে তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তারা মনে করেছিল শিবিরকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে, শিবিরের নামনিশানা মুছে ফেলে দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে ছাত্রশিবির এখন ছাত্রসমাজের কাছে সবচেয়ে আপন সংগঠন।'
সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, 'ছাত্ররা শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি চরিত্রে বিকাশ লাভ করুক, আর এ দায়িত্ব ছাত্রশিবির লালন করে, যা অন্য কোনো সংগঠনের পক্ষে সম্ভব নয়। কিছু সংগঠন নিজেদের বড় মনে করলেও তাদের কর্মসূচিতে চরিত্র গঠনের কার্যক্রম নেই বরং চারিত্রিকভাবে দেউলিয়া সংগঠনগুলো ছাত্রশিবিরকে প্রতিপক্ষ মনে করে। আর কিছু ইসলামী সংগঠন এখনো সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সঠিক অবস্থান তৈরি করতে পারেনি।'
এ অবস্থায় ছাত্রশিবিরকেই ছাত্রসমাজের চরিত্র গঠন ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনের দায়িত্ব নিতে হবে। ছাত্রসমাজের প্রিয় ও আস্থায় যে জায়গা তৈরি হয়েছে, সেটাকে নিয়ামত ও বাড়তি সুযোগ মনে করে অন্তরে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও বেশি বেশি কাজের মাধ্যমে তার জন্য শুকরিয়া আদায় করা জরুরি বলেও জানান তিনি।
কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, 'শিবিরের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আমাদের প্রতিপাদ্য ঠিক করেছি মেধা ও সততায় গড়বো সবার বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশটা আমার হবে আপনার হবে, যে বাংলাদেশে কোনো ধর্মীয় বৈষম্য থাকবে না, যে বাংলাদেশে কোনো শ্রেণি-পেশার বৈষম্য থাকবে না, যে বাংলাদেশে ধনী-গরিব কোনো বৈষম্য থাকবে না। সবাই তার নাগরিক সমান সুযোগ পাবে এবং সবাই তার ন্যায়বিচার পাবে। সবাই তার অধিকার পাবে এমন বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই।'
তিনি বলেন, 'আমরা সবার সহযোগিতা চাই, দোয়া চাই এবং আগামী দিনে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই। শিবির চাই এদেশের ছাত্র সমাজের মাঝে মেধা ও যোগ্যতার বিকাশ ঘটাতে। বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার দেশ কিন্তু দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, অপরাজনীতি ও দক্ষ নেতৃত্বের অভাবে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। এতোদিন আমাদেরও সুযোগ দেয়া হয়নি। এখন আমরা দক্ষ, যোগ্য এবং মানবিক মানুষ গড়ে তোলার কাজে নিয়োজিত আছি।'
তিনি আরো বলেন, 'আগের নেতারা চিন্তা করতেন কীভাবে ভোট ডাকাতি ও রাতে ভোট করে গণহত্যা চালিয়ে তাদের রাজত্ব কায়েম করা যাবে। পশ্চিমারা আমাদের দেশকে লুটপাট করেছে এখন তারা আমাদেরকে নানা বিষয়ে শিক্ষা দিতে চাই। অথচ মুসলমানরা একসময় সমৃদ্ধ ছিল শিক্ষা, সাহিত্য, ব্যবসা-বাণিজ্যে সর্বক্ষেত্রে অগ্রসর ছিল। আমরা মুসলমানদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে চাই।'
সভাপতি বলেন, 'শিবিরের এই কাজে অনেক বাঁধা, জুলাই বিপ্লবের পূর্বে ২৩৪ জন শহিদ করা হয়েছে এবং এখনো ৭ জন গুম হয়ে আছে। ২৪ এর বিপ্লবে অন্য সকল মানুষের মতো জীবন দিয়ে রক্ত দিয়ে আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে এই বিপ্লবকে সফল করতে সহযোগিতা করেছে।'
এরপরে তিনি ইবনে আউফ কমার্স কার্নিভ্যাল এ বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।