আরেকটি ২৫ ফেব্রুয়ারি। ১৬ বছর আগের এই দিনেই ঘটেছিল স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড। একসাথে ৫৭ সেনা অফিসার নিহতের ঘটনা পৃথিবীতেও বিরল।
এতদিন নামমাত্র এই দিনটি পালন হলেও এবারের বাস্তবতা ভিন্ন। জাতীয় শহীদ সেনা দিবস ঘোষণা করায় দিনটি নিয়ে সবার বাড়তি আগ্রহ ছিল। বনানীর সামরিক কবরস্থানে সকাল নয়টায় হাজির হন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও তিন বাহিনীর প্রধান।
শুরুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে শ্রদ্ধা জানান সামরিক সচিবরা। এরপর একে একে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা , তিন বাহিনীর প্রধান, বিজিবির মহাপরিচালক ও শহীদ সেনা পরিবারের সদস্যরা শ্রদ্ধা জানান। এসময় শহীদদের সম্মানে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়।
আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে সেনা পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন সমাধির সামনে। কেউ কেউ করেন মোনাজাত। কারও চোখের কোণে আসে জল। আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয় বনানী সামরিক কবরস্থান ঘিরে। সেখান থেকেই দাবি তোলেন পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারের।
এরপর শ্রদ্ধা জানাতে আসেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। ২৫ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ সেনা দিবস ঘোষণা করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান তারা। জানান, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আঘাত হানাই ছিল পিলখানা হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দেশি ও বিদেশি ষড়যন্ত্রের তদন্তের আহ্বান তাদের।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, 'সেনাবাহিনীর জন্য এটি কাল দিন। সেনাবাহিনীর শত্রুরা এই হত্যা কাণ্ড ঘটিয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আঘাত হানা ছিল উদ্দেশ্য। শহীদ সেনা দিবস করায় সরকারকে ধন্যবাদ। সঠিক বিচার দাবি করি আমরা। শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের আত্মত্যাগ যাতে বৃথা না যায়। সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপোষ নয়।'
আর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, স্বাধীন তদন্ত কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে।