২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পর আবারো ট্রেনের হুইসেল আর যাত্রীদের কোলাহলে মুখর রেলওয়ে স্টেশনগুলো। অবসান হলো রেল যাত্রীদের ভোগান্তির। সকালে চট্টগ্রাম রেল স্টেশন থেকে একে একে ছেড়ে যেতে থাকে বিভিন্ন গন্তব্যের ট্রেন।
তবে ট্রেন চলাচল শুরু হলেও কিছুটা শিডিউল বিপর্যয়ে আবারো ভোগান্তিতে পড়েছেন চট্টগ্রামের যাত্রীরা। সকাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করা চট্টলা এক্সপ্রেস, সুবর্ণ, সিলেটের পাহাড়িকা এবং কক্সবাজারগামী স্পেশাল ট্রেন বেশ দেরিতে স্টেশন ত্যাগ করে। অন্য ট্রেনগুলো এক থেকে দেড় ঘণ্টা দেরিতে ছাড়লেও চট্টলা এক্সপ্রেসের শিডিউল বিপর্যয় গিয়ে দাঁড়ায় দুই ঘণ্টায়। তারপরও রেল চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় খুশি যাত্রীরা।
চট্টগ্রাম গুডশ পোর্ট ইয়ার্ডের প্রধান ইয়ার্ড মাস্টার মো. আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমার এখানে পর্যাপ্ত ইঞ্জিন না থাকায় দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এখন দুটা ট্রেন চালানোর অনুমতি দিয়েছে।’
রেল কর্মকর্তারা জানান, প্রথমদিনে ইঞ্জিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জ্বালানি সরবরাহ করতে হয়। এতে কিছুটা শিডিউল বিপর্যয় হলেও আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে তা স্বাভাবিক হবে।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘র্যাকগুলো বিভিন্ন ইয়ার্ডে ছিল, সেসব আনার জন্য যেসব স্যান্ট ইঞ্জিন ছিল সেটা আমরা সকাল ছয়টায় পেয়েছি। তাই সঠিক সময়ে ট্রেনগুলো চালাতে পারি নাই।’
চট্টগ্রামে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের প্রভাব পড়ে কুমিল্লার যাত্রীদের ওপর। ঢাকা ও সিলেটগামী ট্রেন কুমিল্লা স্টেশনে পৌঁছায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা দেরিতে।
কর্মবিরতি প্রত্যাহারের পর রেল চলাচল স্বাভাবিক হলে স্বস্তি ফেরে ময়মনসিংহের যাত্রীদের। সকাল ৭টায় স্টেশন ত্যাগ করে চট্টগ্রামগামী ময়মনসিংহ এক্সপ্রেস। এরপর পর্যায়ক্রমে ছেড়ে যায় নাসিরাবাদ এক্সপ্রেসসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন। তবে, শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে অনেক যাত্রী সকালে স্টেশনে এসে বিড়ম্বনায় পড়েন।
এদিকে, ধর্মঘট প্রত্যাহার হওয়ায় উত্তরের অন্যতম ব্যস্ত স্টেশন বগুড়া ফের যাত্রীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। শিডিউল অনুযায়ী ট্রেন চললেও যাত্রীর চাপ ছিল কম। ট্রেন চলাচলে স্বস্তি ফিরলেও এভাবে হঠাৎ রেল চলাচল বন্ধের ঘোষণার সমালোচনাও করেন যাত্রীরা।
কর্মবিরতি প্রত্যাহারের পর রাজশাহী রুটেও ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ায় খুশি যাত্রীরা। রেল বন্ধ থাকায় স্টেশনে নির্ঘুম রাত কাটানো যাত্রীরা বলছেন, ট্রেন চলাচল শুরু না হলে তাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছাতো। রাজশাহী স্টেশন থেকে মোট ৮টি ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যায়।
এর আগে, কর্তৃপক্ষের আশ্বাস এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে গেলো পৌনে রাত ৩টার দিকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন রেলওয়ের রানিং স্টাফরা।