পরিবেশ ও জলবায়ু
দেশে এখন

খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙন, রুদ্ররূপে কুশিয়ারা

হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার ওপরে ওঠায় শহরের জালালাবাদ এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। তবে এটি অস্থায়ী বাঁধ হওয়ায় বড় ধরণের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ভারতের আসামে ভারি বৃষ্টিপাত কমে আসায় নদীর উজানে পানিও কমতে শুরু করেছে। যে কারণে এই বাঁধ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

আজ (বুধবার, ১৯ জুন) দুপুরে হবিগঞ্জের জালালাবাদ এলাকায় নদীতে এই ভাঙন দেখা দেয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিনব্যাপী ভারতের ত্রিপুড়া ও আসামে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে খোয়াই নদীর পানি বাড়তে থাকে। সকাল ৯টায় খোয়াই নদীর পানি চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩১ সেন্টিমিটার ওপরে উঠে যায়। এছাড়া শহরের মাছুলিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার ওপরে উঠে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসনাইন মাহমুদ বলেন, 'নদীর অস্থায়ী বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। উজানে পানি কমে আসছে, তাই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা যত দ্রুত সম্ভব এই বাঁধটি মেরামত করে ফেলবো।'

তিনি আরও বলেন, 'সন্ধ্যা ৬টায় নদীর পানি বাল্লা পয়েন্টে বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং শহর অংশে ৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এখন ধীরে ধীরে পানি নেমে যাচ্ছে।'

এদিকে অব্যাহতভাবে বেড়েই চলেছে কুশিয়ারা নদীর পানি। সকাল ৯টায় কুশিয়ারা নদী শেরপুর পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার, মার্কুলী ২১ সেন্টিমিটার এবং আজমিরীগঞ্জে ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

বিকেলে নদীর পানি বেড়ে শেরপুর পয়েন্টে ২১ সেন্টিমিটার, মার্কুলী ৩২ সেন্টিমিটার এবং আজমিরীগঞ্জে ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে ভাটির জনপদে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

জেলা প্রশাসক জিলুফা সুলতানা বলেন, 'বন্যা মোকাবিলায় জেলার ৯টি উপজেলার ৮৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ৪২০ মেট্রিকটন চাল, ৭৮ বান্ডিল টিন ও ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা বরাদ্দ হিসেবে রয়েছে।'

এভিএস

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর