শ্রম আইনের সংশোধনীতে যে ত্রুটি ছিল, তাতে শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে। তাই রাষ্ট্রপতি আইনটিতে স্বাক্ষর না করে ফেরত পাঠিয়েছেন।
শ্রমিকদের অধিকারের প্রতি সরকারের সদিচ্ছার প্রতিফলন হিসেবেই এমনটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক। নির্বাচনের পর নতুন সংসদে শ্রম আইনের ত্রুটি সংশোধন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এ সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, 'শ্রম আইন যখন সংসদে যায়, তখন একটি মিসপ্লেস হয়ে গিয়েছিল। তা হচ্ছে, শ্রমিকদের সঙ্গে যদি মালিকরা বেআইনি আচরণ করেন, তাহলে তাদের জন্য একটি সাজার কথা আইনের মধ্যে আছে। এটি ২৯৪ এর ১ উপধারা হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা সেরকম হয়নি।'
মন্ত্রী বলেন, 'গত সংসদে অনেকগুলো বিল খুব তাড়াতাড়ি পাস হয়। যে কারণে এ ভুল পরে ধরা পড়েছে। শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে যখন রাষ্ট্রপতির কাছে আইনটি স্বাক্ষরের জন্য গিয়েছে, তখন এ ত্রুটির কারণে শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়ে যেতে পারে, সে বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। সে জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে ভুলের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।'
তখন আইন অনুসারে বিলটিতে সই না করে আবার জাতীয় সংসদে পাঠানো হয়েছে বলে জনান আনিসুল হক। তিনি বলেন, 'যেহেতু এ আইনটি সংসদে পাস হয়েছে এবং একটি জায়গায় সংশোধন করতে হবে। সংশোধনের জন্য আইনটি আবার সংসদে যেতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'যেহেতু এখন তফসিল ঘোষণা হয়েছে এবং বর্তমান সংসদে আর অধিবেশন হবে না,সেহেতু নির্বাচনের পর নতুন সংসদে এটি উপস্থাপন করা হবে। এবং ভুল সংশোধন করে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা করা হবে।'
শ্রম আইন রাষ্ট্রপতির ফেরত দেয়ার সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের বক্তব্যের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে আরও বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রর ঘোষণা করা আইনে মার্কিন কিছু আইন আছে, যেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টিও আছে। এটি এমন না যে বাংলাদেশের জন্য করা হয়েছে। এ আইন আগেই ছিল, তার ব্যবহার সম্পর্কে তারা বক্তব্য দিয়েছেন। কাজেই আমাদের শ্রম আইন রাষ্ট্রপতির ফেরত দেয়ার সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের বক্তব্যের কোনো সম্পর্ক নেই।'