নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিকেল চারটার মধ্যে যেসব ভোটার ভোটকেন্দ্রের লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেয়া হয়। এসব ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রগুলোতে পর্যায়ক্রমে ব্যালট গণনা শুরু করা হয়েছে।
সকাল সাড়ে সাতটায় দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। টানা নয় ঘণ্টা বিরতিহীনভাবে ভোট নেওয়া হয়। তবে শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। নতুন তফসিল অনুযায়ী ওই আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
আরও পড়ুন:
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, গণনার সময় প্রথমে সংসদ নির্বাচনের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালট আলাদা করা হবে। এরপর পৃথকভাবে দুই ধরনের ব্যালট গণনা করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট বাক্স খোলা হচ্ছে এবং উপস্থিত প্রার্থী ও এজেন্টদের সামনে গণনা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভোট গণনা শেষে ফল সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে ভোট গণনা সম্পন্ন করে দ্রুত ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছর পর ১২ ফেব্রুয়ারি গণতন্ত্রের নতুন পথযাত্রার এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় মাঠে রয়েছেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে আজ ভোট হচ্ছে ২৯৯টি আসনে। একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ছাড়া ৫০টি রাজনৈতিক দল। অংশ নেয়া দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি ইত্যাদি। বহু বছর পর শঙ্কামুক্ত ভোটদানের প্রত্যাশা নিয়ে গ্রামেগঞ্জে গেছেন লাখো তরুণ, যুবক ও প্রবীণ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে ২০১৪ সালে ‘একতরফা’, ২০১৮ সালে ‘রাতের ভোট’ এবং ২০২৪ সালের ‘আমি-ডামির নির্বাচন’ দেশের নির্বাচনব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ভোটারদের একটি বড় অংশের অভিযোগ ছিল, তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এবারের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হলে তা হবে যেমন গণতন্ত্র উত্তরণের প্রথম ধাপ, তেমনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে তা হবে সংবিধানের মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নের সূচনা।
গত ১১ ডিসেম্বের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্বাচনি দুয়ারে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। এবারের নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৫ ভোটারের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রায় ৪ কোটি তরুণ ভোটদানের সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তাদের সঙ্গে এই ব্যবস্থাপনায় ভোট দিতে পারছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বন্দিরা।
আরও পড়ুন:
শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে এবার ২৯৯টি আসনে দল, স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২ হাজার ২৮ প্রার্থী ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। পুরো নির্বাচনে হাজারখানেক ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি করছে ইসি। ৫০টি রাজনৈতিক দলের ১ হাজার ৭৫৫ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। বিভিন্ন দলের ৬৩ জনসহ নারী প্রার্থী আছেন ৮৩ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে আবার ২০ নারী লড়াইয়ে রয়েছেন।
৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটদানের সুযোগ পাবেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। তাদের মধ্যে ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ পুরুষ, ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ১ হাজার ২৩২। ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে বাড়তি নিরাপত্তা দিচ্ছে ইসি। ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
ভোটগ্রহণের জন্য ৬৯ রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ৫৯৮ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে ইসি। এছাড়া ৪২ হাজার ৭৭৯ প্রিসাইডিং অফিসার, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ পোলিং অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে।





