পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সরকারি সাত কলেজে নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারির দাবিতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মোড়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীদের একাংশ নিয়ে গঠিত ‘সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলন’।
আজ দুপুর ১টার দিকে সায়েন্স ল্যাব ক্রসিংয়ে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা কলেজ ও ইডেন কলেজের ৬ থেকে ৭ শতাধিক শিক্ষার্থী সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন।
টেকনিক্যাল ক্রসিংয়ের মাঝখানে মিরপুর বাংলা কলেজের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেওয়ায় ইনকামিং ও আউটগোয়িংসহ বাংলা কলেজগামী সব দিকের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। একই দাবিতে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরাও মহাখালীর সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন।
তাঁতিবাজার মোড়ে সরকারি কবি নজরুল কলেজ ও সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা সড়ক ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তারা গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছিলেন, আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে সায়েন্স ল্যাব, টেকনিক্যাল ও তাঁতিবাজার মোড় অবরোধ করা হবে।
তাদের এক দফা দাবি হলো, আগামী ১৫ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের হালনাগাদ খসড়া অনুমোদন এবং রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি।
অন্যদিকে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা ওই কলেজের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানার হত্যার বিচার দাবিতে ইন্দিরা রোডের মূল সড়ক এবং ইন্দিরা রোড–সংলগ্ন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ডাউন র্যাম্পের মুখ বন্ধ করে দেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
১২টা ৩০ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীরা ইন্দিরা রোড ছেড়ে ফার্মগেট ক্রসিংয়ে অবস্থান নেন। ফার্মগেট থেকে সব দিকে যান চলাচল বন্ধ আছে।
ঢাকা মহানগর ট্রাফিক বিভাগ জানায়, ফার্মগেট এবং সায়েন্সল্যাবে সড়ক বন্ধ থাকার কারণে রমনা জোনের বাংলামটর, ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, হেয়ার রোড এবং কাকরাইল মসজিদ ক্রসিংয়ে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ডাইভারসন দিয়ে গাড়ির গতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলমান রয়েছে।
এর আগে পুলিশ জানায়, সড়ক অবরোধের কারণে ইন্দিরা রোডের মুখে যানবাহন ডাইভার্ট করে বিজয় স্মরণীর দিকে পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ইন্দিরা রোডের ডাউন র্যাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে।
এর আগেও তেজগাঁও কলেজের ছাত্রাবাসে সংঘর্ষে আহত হয়ে শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানার মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে একাধিকবার বিক্ষোভ করেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, গত ৬ ডিসেম্বর ছাত্রাবাসে ঢুকে কয়েকজন বহিরাগত সাকিবুল হাসান রানাকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। চার দিন চিকিৎসার পর তিনি মারা যান।





