বিজয়া দশমীর সকাল থেকে বিহিত পূজা, সিঁদুর উৎসব, ভোগ বিতরণের সকল আনুষ্ঠানিকতা চলে দুপুর পর্যন্ত। পরে আনন্দ উচ্ছ্বাসে বেলা গড়ায় দেবীর বিদায় আয়োজনে। প্রতিবারের মত এবারও চট্টগ্রাম মহানগরীর চারটি স্থানে প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হয়। এসময় নগরীর বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ থেকে শতাধিক প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। দিনভর হাজার হাজার ভক্ত, পূজারী, দর্শনার্থী ভিড় ছিলো পতেঙ্গায়।
ভক্তরা জানান, তারা পূজা উদযাপন করেছেন। তারা আনন্দিত এভাবে পূজা করতে পেরে।
সকালে দেবীবরণ ও সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে বরিশালের মণ্ডপে মণ্ডপে শুরু হয় দশমীর আনুষ্ঠানিকতা। পরে ঢাক-ঢোল আর উলুধ্বনিতে শোভাযাত্রা করে প্রতিমা নেয়া হয় কীর্তনখোলা নদীর ঘাটে। চোখের জলে ভক্তরা দেবীকে বিদায় জানান। সবার মুখে একই কথা, ‘আসছে বছর আবার হবে।’
ময়মনসিংহে দেবীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ঢাকের শব্দ, ধূপধূনোয়- ব্রহ্মপুত্রের বুকে উমাকে বিদায় জানান ভক্তরা। প্রায় অর্ধ শত প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয় বগুড়ার সারিয়াকান্দি কালীতলাঘাটে। এর আগে কল্পরম্ভ, বিহিত পূজা সিদুরদান এসব আচার অনুষ্ঠান চলে মণ্ডপে মণ্ডপে।
স্থানীয় হিন্দুধর্মালম্বীরা জানান, এ বছর তারা খুব আনন্দে পূজা পালন করতে পেরেছেন। বিসর্জন দিতে এসেছেন দেবী দুর্গাকে।
রাজশাহীর তালাইমারী, বুলনপুর ও মন্নুজান ঘাটে দেবীর বিসর্জন হয়েছে। বিকেলে নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকঢোল বাজিয়ে আসতে থাকে প্রতিমা। ঘাটে এসে সাতপাকে ঘুরিয়ে পদ্মা নদীতে দেয়া হয় বিসর্জন।
আরও পড়ুন:
সিলেটেও শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। নগরীর ঐতিহ্যবাহী চাঁদনীঘাট এলাকায় ঢাকের তালে তালে দেবী দূর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা।
বিকেলে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে দেবীকে আনা হয় মাথাভাঙা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন মঞ্চে। এসময় রঙ ছিটিয়ে বাদ্য বাজিয়ে চলে আনন্দ-উচ্ছ্বাস।
কক্সবাজার সৈকতের লাবণী পয়েন্টে উৎসবমুখর পরিবেশে হয়েছে প্রতিমা বিসর্জন। এসময় লাখো পর্যটক, ভক্ত-অনুরাগী ও স্থানীয় মানুষের ঢল নামে সৈকতে। বিকেল থেকে শুরু হওয়া প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে লাবণী পয়েন্টসহ সৈকতের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রতিমা বিসর্জন দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটক ও ভক্ত-অনুরাগীরা সৈকতে সমবেত হন। ঢাক-ঢোল, উলুধ্বনি ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হয় দেবী দুর্গাকে।
প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে সৈকতে নেয়া হয় চার স্তরের বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে দায়িত্ব পালন করেন জেলা পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ, নৌবাহিনী ও লাইফগার্ড সদস্যরা।
প্রতিমা বিসর্জনে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে থাকে পর্যটন নগরী কক্সবাজারজুড়ে। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আনন্দঘন পরিবেশে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।





