রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: দল ও অঙ্গসংগঠন নিয়ন্ত্রণের আহ্বান টিআইবির

টিআইবির লোগো
টিআইবির লোগো | ছবি: সংগৃহীত
0

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। হামলায় জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

একই সঙ্গে দল ও অঙ্গসংগঠনকে নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সংস্কার ও আত্মশুদ্ধির উদ্যোগ নিতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

গতকাল (রোববার, ৪ অক্টোবর) রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশিয় অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে। একই ঘটনায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

আজ (সোমবার, ৫ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, হামলার শিকার গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারী, তাদের সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষকদের আইনি প্রক্রিয়ায় জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা জনগণের তথ্য জানার অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির সুযোগ সংকুচিত করে। আহতদের যথাযথ চিকিৎসা, গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অসহায়ত্ব ও পুলিশের ব্যর্থতা দেখিয়েছে যে এ ধরনের সমস্যার সমাধান শুধু হামলায় সরাসরি জড়িতদের জবাবদিহির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। রাজনৈতিক দলগুলোর, বিশেষ করে ক্ষমতাবান দলগুলোর, সংস্কার ও আত্মশুদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দল ও অঙ্গসংগঠনকে নিয়ন্ত্রণের রাজনৈতিক দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। শুধু তদন্ত কমিটি গঠন বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার মধ্যে দায়িত্ব সীমাবদ্ধ না রেখে সহিংসতায় প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ এবং অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

রাবির প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, দখলবাজি ও পেশিশক্তির প্রদর্শনের মতো ঘটনাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃত্বের দুর্বলতাকে সামনে এনেছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার চাওয়া ও শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানোর অধিকার সুরক্ষিত রাখতে হবে। তবে কোনো দাবি আদায়ে দলীয় প্রভাব, ভয়ভীতি বা বলপ্রয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হওয়া উচিত, দলীয় প্রভাবের মাধ্যমে নয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান এবং দায় নির্ধারণেরও দাবি জানিয়েছে টিআইবি। রাজনৈতিক চাপ বা অসহায়ত্বের কথা বলে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে সংস্থাটি বলেছে, রাজনৈতিক পরিচয় যেন অপরাধের সুরক্ষা কবচ না হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব পালন করতে পারে—এটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।

এএইচ