গতকাল (বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) যৌথভাবে আয়োজন করে ‘অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও উদীয়মান চ্যালেঞ্জ: আগামী দিনের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক সেমিনার। সেখানে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে দেশের অনেক শিল্প-কারখানা। বিকল্প জ্বালানির ব্যয় মেটাতে না পেরে বন্ধ করে দেয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে কিছু শিল্পমালিককে। এতে একদিকে যেমন কমছে উৎপাদন, অন্যদিকে কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকার হওয়ার পথে হাজারো শ্রমিক। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতে। যা থেকে উত্তরণে হিমশিম খাচ্ছে সরকার।
এমন পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে উদীয়মান চ্যালেঞ্জ নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন জানান, বছরের পর বছর ‘অবজ্ঞার’ চোখে দেখা হয়েছে জ্বালানি খাতকে। যার ফল জনগনকে ভোগ করতে হচ্ছে ।
তিনি বলেন, ‘এই খাতটিকে এত অবজ্ঞা করা হয়েছে, প্রাথমিক জ্বালানিটা ছিলো না আমাদের, সেটার পূর্ণ ব্যবহার হয়নি। জ্বালানির জন্য যে স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি একটা পরিকল্পনা, সেটা কিন্তু করা হয়নি।’
সেমিনারে সংকট মোকাবিলা করতে ধান্ধাবাজি ও লুণ্ঠনের অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লণ্ঠনের অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে উৎপাদন এবং উন্নয়নের অর্থনীতিতে প্রবেশ করতে হবে। সেটা কীভাবে করা যায়, এজন্য আমাদের নীতি-কৌশল তৈরি করতে হবে।’
সেমিনারে এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগের আগে সচল কারখানাগুলোকে টিকিয়ে রাখতে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা ওই বন্ধ ফ্যাক্টরি চালু করার বিপক্ষে নই। কিন্তু বন্ধ ফ্যাক্টরি চালু করার আগে, যে চালু ফ্যাক্টরিগুলো আছে, এগুলো যাতে কোনোভাবেই বন্ধ হতে না পারে, এজন্য জ্বালানি সরবরাহের দিক থেকে সেই বিষয়টি সুনিশ্চিত করা দরকার। কারণ এটা যদি না হয়, আপনি পাইপলাইনে আবার বন্ধ ৫০টি ফ্যাক্টরি দিয়ে দিলেন, সঙ্গে আবার আরেকটি সমস্যা দিয়ে দিলেন যে, তোমাকে জ্বালানি সংকটেও ভুগতে হবে। তাহলে তার পক্ষে কিন্তু ভালো পারফর্ম করা সম্ভব হবে না।’
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল তিতুমীর। তবে তিনি এসব সমস্যাকে বিগত সরকারের রেখে যাওয়া সংকট বলে অভিযোগ করেন। বলেন, ‘পতিত সরকারের সীমাহীন লুটপাটের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই সংকট আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি। এর মূল কারণ ছিলো আমদানি নির্ভরতা, কোনোরকম গ্যাস অনুসন্ধান যাতে না করতে হয় এবং স্বজনতোষী পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি বজায় রেখে অলীগারগিক ব্যবস্থা তৈরির মাধ্যমে লুটপাট চালিয়ে যাওয়া।’





