কুইক রেন্টালের নামে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন | ছবি: এখন টিভি
0

কুইক রেন্টালের নামে বিগত সরকার বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে করা চুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। আজ (সোমবার, ৩১ আগস্ট) দুপুরে মানিকগঞ্জে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয় নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকার কুইক রেন্টালের নামে লক্ষ-কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে।’ আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহের চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, ‘দেশে সংকট তৈরির জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহে ওঠানামা করা হচ্ছে।’

দেশের গ্যাস উৎপাদন নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তার দাবি, আগের সরকার নতুন গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমান সরকার গ্যাসকূপ খননের কাজ শুরু করেছে।

স্বাস্থ্য খাতের প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো কাজ হয়নি। হাসপাতালগুলোতে শয্যা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বাড়ানো হয়নি, পর্যাপ্ত জনবলও নিয়োগ দেয়া হয়নি। ফলে চিকিৎসক-নার্স সংকটসহ নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশে প্রতি ১১ হাজার মানুষের বিপরীতে মাত্র একজন চিকিৎসক রয়েছেন। স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির কারণেও মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

আগের সরকারের সময় চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মন্ত্রী বলেন, ‘ফরিদপুর ও বরিশালে দুটি এমআরআই মেশিন পড়ে রয়েছে।’ তার দাবি, প্রতিটি মেশিন ১৮ কোটি টাকা করে কেনা হলেও সেগুলো স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বাঙ্কার তৈরি করা হয়নি। বর্তমানে মেশিনগুলোর দাম ১১ থেকে সাড়ে ১১ কোটি টাকা বলেও জানান তিনি।

জনবল না থাকলেও আগের সময়ে বিপুল অর্থ ব্যয়ে অনেক চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবহার না হওয়ায় এসব মেশিন শেষ পর্যন্ত ভাঙারির কাছে বিক্রি করতে হতে পারে।’

স্বাস্থ্যসেবা উপজেলা পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী তিন বছরের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এর মধ্যে নারী ও শিশুদের জন্য ২০টি করে এবং কিডনি রোগীদের জন্য ১০টি ডায়ালাইসিস শয্যা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।’

চলতি বছরের মধ্যেই দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি করে এবং জেলা হাসপাতালগুলোতে ১০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন দেয়ার কথা জানান মন্ত্রী। এ জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। ইউনিয়ন পর্যায়েও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে তিন বছরের মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে হেলথ সেন্টার করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এসব কেন্দ্রে একজন এমবিবিএস চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফারি কর্মী রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর গত ছয় মাসে স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখন চিকিৎসক ও নার্সরা সময়মতো হাসপাতালে আসছেন।’

হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খাবারের মান উন্নয়নে প্রতিদিন ভ্যাট-ট্যাক্স ছাড়া ২৫০ টাকা করে বরাদ্দ দেয়ার কথা জানান তিনি। বিশেষ দিনগুলোতে রোগীদের জন্য উন্নত খাবারের ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানান মন্ত্রী।

দুর্নীতি নির্মূলের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে দুর্নীতি দূর করতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।’

সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মাদক, ধর্ষণ এবং অনলাইন-অফলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব অপরাধ সমাজ থেকে নির্মূল করতে হবে। অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না এবং এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী আফরোজ খান রিতা, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির এবং মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান শান্ত। এছাড়া জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ