কর্মসম্পাদনের হার তুলনামূলকভাবে কম বলে প্রতীয়মান মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ পরিদর্শনের আওতায় আনা হবে। পরিদর্শন শেষে ওই দিন অথবা পরবর্তী কার্যদিবসের মধ্যে পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসহ প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে হবে।
গতকাল (সোমবার, ২৪ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, ২০৩৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কার্যক্রমের গতি, দক্ষতা ও সময়ানুবর্তিতার ওপর নির্ভর করছে। ফলে দাপ্তরিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এখন জাতীয় অগ্রাধিকার।
মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনায় সরকার এরই মধ্যে ‘সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতি (জিপিএমএস)’ চালু করেছে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, কৌশলগত ও ফলাফলভিত্তিক কাঠামো হিসেবে এটি কার্যকর হলেও এর তথ্য বছরে মাত্র দুইবার পর্যালোচনা করা হয়। কিন্তু কার্যক্রমের প্রকৃত গতি ও প্রকৃতি অনুধাবন এবং তাৎক্ষণিক সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিতে দৈনন্দিন কার্যক্রমের পরিবীক্ষণ-তথ্যও প্রয়োজন। তা না হলে দুই পর্যালোচনার মধ্যবর্তী সময়ে অনেক পত্র ও নথি অনিষ্পন্ন থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রায়ই দেখা যাচ্ছে যে কতিপয় মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পত্র ও নথি নিষ্পত্তিতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব হচ্ছে। সুশাসন ও জনপ্রশাসন-সংশ্লিষ্ট সেবার মান উন্নয়নের অন্যতম নির্দেশক হলো যথাসময়ে পত্র নিষ্পত্তি করা। এ কারণে দৈবচয়ন বা র্যান্ডম ভিত্তিতে আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:
নির্বাচনি ইশতেহার, জিপিএমএস ও সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত পুল থেকে তিন সদস্যের কয়েকটি ‘পরিবীক্ষণ টিম’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এসব টিমকে দৈবচয়ন ভিত্তিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ পরিদর্শনের দায়িত্ব দেয়া হবে।
পরিবীক্ষণ টিমের কর্মপরিধিতে বলা হয়, পূর্বঘোষণা ছাড়াই যে কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ‘সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪’ অনুযায়ী পরিদর্শন করতে হবে। এসময় ডাক ও ইস্যু রেজিস্টারসহ সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার পর্যালোচনা করে দৈবচয়ন ভিত্তিতে পত্রের গন্তব্যস্থল ও নিষ্পত্তির অবস্থা যাচাই করা হবে।
এছাড়া ডি-নথি বা হার্ড নথি ব্যবস্থায় নথি উপস্থাপন ও নিষ্পত্তির অবস্থা, অনিষ্পন্ন নথির সংখ্যা এবং বিলম্বিত নিষ্পত্তির হার পরীক্ষা করবে টিম। কার্যাবলি ও কেস নিষ্পত্তির সার্বিক ব্যবস্থাপনা, কাজের বণ্টন, নথির প্রবাহ এবং নির্ধারিত সময়সীমা প্রতিপালনের বিষয়ও পর্যালোচনা করা হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে টিম গঠন ও দায়িত্ব বণ্টন করবে জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, কর্মসম্পাদনের হার তুলনামূলকভাবে নিম্নমুখী বলে প্রতীয়মান মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিদর্শনের আওতায় আনা হবে। পরিদর্শন শেষে সংযোজনী ছক অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসহ প্রতিবেদন পরিদর্শনের দিন অথবা পরবর্তী কার্যদিবসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দাখিল করতে হবে।
চিঠিতে জানানো হয়, এ কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো কার্যসম্পাদনের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা, উত্তম চর্চার প্রসার ঘটানো ও সেবা দেয়ার গতি বাড়ানো।
এছাড়া মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে চারটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এগুলো হলো- ডাক ও ইস্যু রেজিস্টারসহ সংশ্লিষ্ট সব রেজিস্টার হালনাগাদ রাখা, ডি-নথি ও হার্ড নথিতে অনিষ্পন্ন নথির নিয়মিত পর্যালোচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা, পরিদর্শনের সময় টিমকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও রেকর্ডপত্র দিয়ে সহযোগিতা করা এবং নির্ধারিত তারিখে পরিদর্শন টিমের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া।





