আজ (শুক্রবার, ২১ আগস্ট) সাভারের ব্র্যাক সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজমেন্টে (ব্র্যাক সিডিএম) ‘উপাচার্যদের সংলাপ: উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী জাতীয় সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) এ সংলাপের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিন বলেন, ‘প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ ইনোভেশন ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণাগুলো কেবল প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ না থেকে সরকারি অনুদান ও অর্থায়নের মাধ্যমে সফল স্টার্টআপে পরিণত হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় শিল্পাঞ্চল, হাইটেক পার্ক বা অর্থনৈতিক অঞ্চল থাকলেও স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সেগুলোর কার্যকর সংযোগ এখনো গড়ে ওঠেনি। এ বিচ্ছিন্নতা দূর করে শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে একটি সমন্বিত সহযোগিতার কাঠামো তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।’
উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের লাইসেন্সিংসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে সরকার নীতিগত সহায়তা দেবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংযোগ স্থাপনে সরকার সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
গবেষণার প্রসঙ্গে শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, আগামী অর্থবছরে গবেষণা খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে সরকার আশাবাদী। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রবেশাধিকার, আধুনিক গবেষণাগার এবং গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হবে।
ড. মাহাদী আমিন বলেন, ‘বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদদের ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি ও ফেলোশিপের মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ আমাদের লক্ষ্য ব্রেইন ড্রেইনকে ব্রেইন সার্কুলেশনে রূপান্তর করা।’
ড. মাহাদী আরও বলেন, ‘সামার স্কুল, সহজতর ক্রেডিট ট্রান্সফার ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক অ্যাকাডেমিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, নমনীয় ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে সফল হচ্ছে। দেশে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়েও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে গ্র্যাজুয়েটরা শুধু দক্ষ পেশাজীবীই হবে না, বরং নীতি, আদর্শ ও সামাজিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে তারা যেন দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই।’
অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক, ইউজিসি চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
দুই দিনব্যাপী এ জাতীয় সংলাপে দেশের প্রায় ৬৫টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, নীতিনির্ধারক, দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ এবং উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞগণ অংশ নিচ্ছেন।—বাসস





