ছয় মাসেই মাঠ প্রশাসনে নারীর ক্ষমতায়নে বড় অগ্রযাত্রা বিএনপি সরকারের

নারীদের ক্ষমতায়ন
নারীদের ক্ষমতায়ন | ছবি: এখন টিভি
0

সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যেই নারীর ক্ষমতায়নে অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে বিএনপি সরকার। এরই মধ্যে স্মরণকালের সর্বোচ্চ সংখ্যক নারীদের মাঠ প্রশাসনের শীর্ষে পদায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে ২০ জেলায় প্রশাসক আর ১৯১ জন ইউএনও পদে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নারীদের। স্বল্পসময়ের যাত্রায় সরকারের নারীবান্ধব এমন সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পরিবর্তন ও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রযাত্রা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

কোনো দেশের সার্বিক উন্নয়ন নির্ভর করে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অংশগ্রহণ। আর সেই জায়গায় বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী তাই তো এই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য নারীদের অংশগ্রহণ কেবল প্রয়োজনীয়ই নয়, বরং অপরিহার্য। বিশাল এ জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে কোনোভাবেই দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই তো ক্ষমতায় আসার আগেই নীতিনির্ধারণ ও নেতৃত্বে নারীদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিতের বিষয়টি ছিলো বিএনপির ৩১ দফা ইশতেহারের অন্যতম নীতিগত অঙ্গীকার।

ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যেই সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নারীদের উপস্থিতি ও ক্ষমতায়ন সুনিশ্চিত করতে বেশ কিছু বাস্তবমুখী ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বিএনপি সরকার। স্মরণকালের সর্বোচ্চ সংখ্যক নারীদের এবার মাঠ প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় ও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পদায়ন করা হয়েছে। ৬৪ জেলার ২১ টিতেই জেলা প্রশাসক এখন নারী।

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঢাকা জেলার প্রশাসক করা হয়েছে একজন নারীকে। এছাড়া ঢাকার পুলিশ সুপার পদেও প্রথমবারের মতো বসানো হয়েছে একজন নারী। রাজধানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দক্ষতার সাথে প্রশাসনিক কার্যক্রম সামলাচ্ছেন নারীরা।

ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘ঢাকা জেলার মতো জায়গায় একই সঙ্গে নারী এসপি ও নারী ডিসি দেয়ার অর্থ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী কিন্তু একটা মেসেজ দিতে চেয়েছেন যে, নারীর যদি দক্ষতা ও যোগ্যতা থাকে তাহলে নারীর ক্ষমতায়নে কোনোভাবেই জেন্ডার ইস্যু বাধা হতে পারে না।’

পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতেও নিয়োগ দেয়া হয়েছে নারী জেলা প্রশাসক। এর মাধ্যমে রাঙামাটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো নারী, জেলা প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ‘এখন নারীরা অনেক বেশি সচেতন, উন্মুক্ত চিন্তা করতে পারে এবং তারা আসলে নিজের জন্য কথা বলতে পারে। এটা খুব পজিটিভ একটা দিক। চলাফেরার ক্ষেত্রে, স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে, তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের (ডিজিশন মেকিং) ক্ষেত্রে—এ সব জায়গাগুলোতেই আসলে ক্ষমতায়ন জড়িত।’

এছাড়া ৪৯৯ টি উপজেলার মধ্যে ১৯১ টিতে প্রশাসন ক্যাডারের নারী কর্মকর্তারা ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে ইউএনও পদের ৩৯ শতাংশই এখন নারীদের দখলে।

রংপুর বদরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, ‘এখন বর্তমানে যারা নারীরা কাজ করছে, আমরা মনে করি যে আমরা যদি এই সবকিছু দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলা করতে পারি, আমরা অবশ্যই ভালো কিছু করতে পারবো।’

একইভাবে ভূমি প্রশাসনেও ৪৭৮ জন সহকারী কমিশনার বা এসিল্যান্ডের মধ্যে ১১৬ জন নারী যা মোট পদের ২৪ শতাংশের বেশি।

কুমিল্লা আদর্শ সদরের সহকারী কমিশনার মাশিয়াত আকতার বলেন, ‘একজন নারী কর্মকর্তা হিসেবে আমাদেরকে দেখে অনুপ্রাণিত হয় অন্যান্য জনগণরা, যাদেরকে আমরা সেবা দেই। তারা দেখে যে, নারী হিসেবে উনি যেহেতু এগুলা করতে পারছে, আমাদেরও কিছু করার আছে এবং আমি আমরা যে যার জায়গা থেকে সেটা করতে পারবো।’

সব মিলিয়ে মাঠ প্রশাসনের ১হাজার ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ পদের মধ্যে ৩৩২ টিতেই নারী কর্মকর্তা দায়িত্বে আছেন অর্থাৎ প্রশাসনিক পদের প্রায় ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ পদই এখন নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের তথা জনগণের উন্নতির জন্য অবশ্যই নারীদের ক্ষমতায়ন জরুরী। তবে সবক্ষেত্রে নারীদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের পাশাপাশি উচ্চপর্যায়েও নারীদের পদায়ন দরকার।

সাবেক সচিব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু আলম মো. শহিদ খান বলেন, ‘পুলিশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা মাঠ পর্যায়ে। যেখানে নারীরা গেলে অন্য নারীদের জন্য যারা আমাদের সমাজে আছেন, অর্থনীতিতে আছেন, কাজ করছেন, অবদান রাখছেন—তাদের জন্য কমিউনিকেশন করতে অনেক সুবিধা হবে। শুধু যে ইউএনও বা এএসপি, এসপি, ডিসি—এসব ক্ষেত্রে যে নারীদের নিয়োগ করলেই যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এমনটা না, উচ্চ পর্যায়ও নারীদেরকে নিয়োগ করতে হবে।’

বিভিন্ন প্রতিকূল প্রতিবেশেও এতো অল্প সময়ে সরকারের নারীদেরকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদের নারীদের এ উপস্থিতিকে সক্ষমতা ও নেতৃত্বের ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেআর