প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আজ (বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই) বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনে ‘বাংলাদেশে কার্যকর দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে জলবায়ু প্রক্ষেপণ ও জলোচ্ছ্বাস মডেলিং’ শীর্ষক একটি জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাইকা বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি মিস তাকাহাশি জুনকো এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উইং-৩ প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইফুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম।
জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে পরিচালিত কারিগরি সহায়তা প্রকল্প (টিএপিপি) ‘স্ট্রেনদেনিং দ্য ক্যাপাসিটি অব ওয়েদার অ্যান্ড ক্লাইমেট সার্ভিসেস’-এর আওতায় ২০২৬ সালের জুলাই মাসে যৌথভাবে একাধিক সক্ষমতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
এ প্রশিক্ষণে জাপান আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ) মেটিওরোলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এমআরআই) প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. আকিহিকো মুরাতা ও ড. নাদাও কোহ্নো অংশগ্রহণ করে বিএমডি কর্মকর্তাদের বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ দেন।
গবেষণা ও নতুন পূর্বাভাসের মূল দিকসমূহ:
- দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।
- অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়বে।
- বর্ষা মৌসুম শুরুর পরও তীব্র ও ঘন ঘন তাপপ্রবাহ দেখা যেতে পারে।
- শীতকাল ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ঘন কুয়াশার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে।
- নতুন মডেলের মাধ্যমে জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা, পরিবর্তনের ধারা এবং সম্ভাব্য প্লাবিত এলাকার আগাম নিখুঁত তথ্য পাওয়া যাবে।
- সমুদ্রের ঢেউয়ের উচ্চতা প্রতিদিন আরও সঠিকভাবে পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, নতুন এই জলোচ্ছ্বাস পূর্বাভাস মডেলটি এরই মধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে এবং এর পূর্বাভাস বিএমডির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে। এ উদ্যোগটি বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) ‘আর্লি ওয়ার্নিং ফর অল’ বৈশ্বিক কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সেমিনারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, সশস্ত্র বাহিনী, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে জাইকার সহযোগিতার প্রশংসা করেন এবং আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি থেকে জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।





