সম্প্রতি গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে এ চক্রের মূলহোতাসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তদন্তকারীদের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া চক্রের প্রধান আরিফুর রহমান পরিচালিত একটি মাত্র বেটিং প্ল্যাটফর্মেই প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হতো।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার একটি রিসোর্টে জুয়ার সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ (১৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার) এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবি জানায়, গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য উঠে এসেছে। দেশ-বিদেশের সার্ভার ব্যবহার করে সুকৌশলে এসব জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করা হচ্ছিল। বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং ব্যাংকিং চ্যানেলকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে খুব অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করতো চক্রটি।
আরও পড়ুন:
গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, এই চক্রটি মূলত ‘লাকি পে’ অথবা ‘গো পে’ নামে দুটি জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক বেটিং সাইটের মাধ্যমে জুয়াড়িদের আকৃষ্ট করতো। সাইটগুলো বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রিত হলেও, দেশে এর বিশাল এজেন্ট নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছিল।
তদন্তে উঠে এসেছে, এই অনলাইন জুয়া সাম্রাজ্যের মূল হোতা ‘নাতান’ নামের একজন চীনা নাগরিক। তিনি বিদেশ থেকে বসে এই পুরো নেটওয়ার্কটি নিয়ন্ত্রণ করেন, আর বাংলাদেশে আরিফুর রহমানের মতো স্থানীয় এজেন্টরা মাঠপর্যায়ের লেনদেন ও গ্রাহক সংগ্রহের কাজ তদারকি করতো।
বিশ্বকাপের মৌসুমে দেশের তরুণ ও যুবসমাজের একটি বড় অংশ সহজে এবং দ্রুত ধনী হওয়ার প্রলোভনে পড়ে এ ধরনের সাইটগুলোতে টাকা খাটাচ্ছে, যা দিনশেষে তাদের ডেকে আনছে চরম আর্থিক ও মানসিক বিপর্যয়।
ডিবি পুলিশ জানায়, এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য এজেন্ট এবং অবৈধ পেমেন্ট গেটওয়েগুলোকে শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। একইসঙ্গে বিশ্বকাপের আনন্দকে বিষাদে রূপ না দিতে এবং যেকোনো চটকদার প্রলোভন থেকে সাধারণ ফুটবলপ্রেমী ও তরুণদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
