বাজেটে সিগারেটের দাম বেড়েছে নামমাত্র—তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো ক্ষুব্ধ

প্রজ্ঞা ও আত্মার লোগো
প্রজ্ঞা ও আত্মার লোগো | ছবি: এখন টিভি
0

নিত্যপণ্যের দাম যেখানে লাগামহীন, সেখানে প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছে নামমাত্র, যা সাধারণ মানুষকে আরও বেশি ধূমপানে উৎসাহিত করবে বলে দাবি করেছে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো।

নিত্যপণ্যের দাম যেখানে লাগামহীন ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে; সেখানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছে নামমাত্র। তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর দাবি, করের এই নগণ্য বৃদ্ধির ফলে তামাক আরও সস্তা হয়ে পড়বে; যা সাধারণ মানুষকে ধূমপানে আরও বেশি উৎসাহিত করবে।

আজ (বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তামাকবিরোধী সংগঠন ‘প্রজ্ঞা’ (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং ‘আত্মা’ (অ্যান্টি-টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স) এ ক্ষোভ প্রকাশ করে। তারা বলেন, ‘এবারের বাজেট সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে উল্টো বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলোর মুনাফা বাড়ানোর এক সুপরিকল্পিত আয়োজন।’

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠন দুটির যৌথ বিশ্লেষণে বলা হয়, বিগত কয়েক বছরে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ৩০ থেকে ৮৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লেও, সিগারেটের বাজারে কোনো কার্যকর কর আরোপ করা হয়নি। বিশেষ করে বাজারের সিংহভাগ (প্রায় ৭৫ শতাংশ) দখল করে থাকা নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে বাড়ানো হয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এর অর্থ হলো, শলাকা প্রতি সিগারেটের দাম বেড়েছে মাত্র ২০ পয়সা, যা বর্তমান মূল্যস্ফীতির বাজারে একেবারেই নগণ্য। এর ফলে তামাকপণ্য সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য হয়ে উঠবে।

আরও পড়ুন:

আলোচকরা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে এখনো সিগারেটে ৪টি ভিন্ন মূল্যস্তর (নিম্ন, মধ্য, উচ্চ ও প্রিমিয়াম) বহাল রাখা হয়েছে। এই জটিল ও ত্রুটিপূর্ণ কর কাঠামোর সুযোগ নিয়ে বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলো অনায়াসে কর ফাঁকি দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। কোম্পানিগুলো তাদের ব্র্যান্ডের স্তর পরিবর্তন করে সরকারকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করছে, যা একদিকে সরকারের আর্থিক ক্ষতি করছে এবং অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে।

সংবাদ সম্মেলনে তামাকবিরোধী আন্দোলনকর্মীরা দাবি করেন, সরকার যদি জনস্বার্থ বিবেচনা করে তাদের প্রস্তাবিত ‘সুনির্দিষ্ট কর’ আরোপের সুপারিশগুলো চূড়ান্ত বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে দেশের অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্য উভয়ই লাভবান হবে।

তামাকবিরোধীদের মতে, সঠিক কর কাঠামো বাস্তবায়ন করা গেলে তামাকের ব্যবহার কমে আসার কারণে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় দেড় লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে। এছাড়া তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা ব্যয় কমার পাশাপাশি সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করা সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তামাক কোম্পানিগুলোর স্বার্থরক্ষা করে কোনোভাবেই ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বা তামাকমুক্ত দেশ গড়া সম্ভব নয়। তারা সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রস্তাবিত বাজেট পুনর্বিবেচনা করে সিগারেটের ওপর সুনির্দিষ্ট ও কঠোর কর আরোপের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

এসএইচ