ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহের ঝক্কি এড়াতে ইলেকট্রিক বাইকের দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। রাজধানীর বিভিন্ন শো রুম ঘুরে দেখা যায় বিক্রি বেড়েছে বিদ্যুৎচালিত এই বাইকের। সর্বনিম্ন ৯০ হাজার থেকে শুরু করে দুই লাখ টাকার মধ্যে মিলছে একেকটি বাইক। তবে ব্যাটারিভেদে রয়েছে দামের তারতম্য।
বিক্রেতারা জানান, আগের চেয়ে ইলেকট্রিক বাইকের বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ। একবার চার্জেই শত কিলোমিটার চলাচল ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম হওয়ায় এই বাইকের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে।
বিক্রেতারা জানান, আগে ডিলারসহ ১০ থেকে ১৫টি বাইক বিক্রি হলেও বর্তমানে ২৫ থেকে ৩০টি বাইক বিক্রি হচ্ছে। এটাতে মেইনটেনেন্সের ঝামেলা নেই। ভবিষ্যতে মানুষ আরও বেশি ই-বাইকের দিকে ঝুঁকবে বলে আশা করা যায়।
আরও পড়ুন:
এদিকে ক্রেতারা জানান, জ্বালানি সংগ্রহের ভোগান্তি কবে নাগাদ কমবে তা নিশ্চিত নন তারা। ফলে বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক বাইক কিনছেন তারা। অনেকে ইঞ্জিনচালিত মোটরসাইকেলের পাশাপাশি দ্বিতীয় বাহন হিসেবেও কিনছেন ইলেকট্রিক বাইক।
ক্রেতারা জানান, প্রতিদিন লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেয়া তো কঠিন। ইলেকট্রিক বাইকের দাম কিছুটা কমিয়ে আনলে ভালো হয়। সোলারেও চার্জ করা যায়। সুতরাং, ফুয়েলের ওপর চাপ কমে যাবে।
অন্যদিকে ইলেকট্রিক বাইকের চাহিদা বৃদ্ধিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এই বাইকের ব্যবহার বাড়ার ফলে চাপ কমবে জ্বালানির ওপর। বিপরীতে বিদ্যুতের ওপর কিছুটা চাপ বাড়বে। ফলে সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জের ব্যবস্থা করা গেলে এর পুরোপুরি সুফল পাওয়া যাবে বলেও মত বিশেষজ্ঞদের।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এম জাকির হোসাইন খান বলেন, ‘প্রচলিত বাইকে ৩০ থেকে ৪০ লিটার তেল যায় সেখানে ই বাইকে ১ থেকে দেড় ইউনিট বিদ্যুৎ লাগে। সেই হিসাব করলে আমাদের ৫০ থেক ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ কমতি। জ্বালানির উৎসটা অবশ্যই আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভিত্তিতে করা উচিত।’
তবে স্থায়ীভাবে জ্বালানি সংকট সমাধানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে বিশেষভাবে নজর দেয়ার আহ্বান এই বিশেষজ্ঞের।
এম জাকির হোসাইন খান বলেন, ‘এই ক্রাইসিস শেষ ক্রাইসিস না। রিনিউবল এনার্জি বেইজড ট্রানজিশনে আপনার যেতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। ৬ মাস থেকে ১ বছরের ভেতর আপনি ২০ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত দিতে পারবেন যদি আপনি চান।’





