ঈদযাত্রায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি সরকারের, অতিরিক্ত ভাড়া নিলে ব্যবস্থা: মন্ত্রী রবিউল

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে বৈঠক
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে বৈঠক | ছবি: সংগৃহীত
0

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ঈদযাত্রায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া নিলে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আজ (বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ) ঈদে সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপথে যাত্রীসাধারণের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তুতি সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় জানানো হয়, ঈদকে সামনে রেখে জাতীয় মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ করিডোরসমূহ এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মেরামত ও সংস্কার কাজ ঈদের অন্তত ১০ দিন আগেই সম্পন্ন করা হবে।

যাত্রীসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর সদরঘাট, মহাখালী, সায়েদাবাদ, গাবতলী ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালে প্রয়োজনীয় সিসিটিভি স্থাপন করা হবে। এসব টার্মিনালকে বিআরটিএ ও পুলিশের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে, যাতে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিস্থিতি মনিটরিং করা যায়।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, উপজেলা, জেলা ও মেট্রোপলিটন সড়ক নিরাপত্তা কমিটিগুলো ঈদের আগে সভা করে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন প্রতিরোধে বিআরটিএ, পুলিশ, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি সড়কের পাশে অস্থায়ী ও ভাসমান বাজার অপসারণ এবং পণ্যবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহন বন্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, টোল প্লাজাগুলো যানজটমুক্ত রাখতে সার্বক্ষণিক ইটিসি বুথ চালু রাখা হবে। এছাড়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ঈদ উপলক্ষে বিশেষ সার্ভিস পরিচালনা করবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যানবাহন ব্যতীত ঈদের আগে তিন দিন এবং ঈদের পরবর্তী তিন দিন মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকবে।

ঈদ উপলক্ষে সিএনজি ও ফিলিং স্টেশনগুলো ঈদের দিনসহ এর আগে সাত দিন এবং পরে পাঁচ দিন সার্বক্ষণিক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে ছুটি দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে একসঙ্গে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সৃষ্টি না হয়। ঈদযাত্রা পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের জন্য ঈদের তিন দিন আগে থেকে ঈদের পরের তিন দিন পর্যন্ত মোট সাত দিনের জন্য একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা থাকবে। এ নিয়ন্ত্রণ কক্ষের টেলিফোন নম্বর ১৬১০৭ এবং মোবাইল নম্বর ০১৫৫০০৫১৬০৬ ও ০১৫৫০০৫৬৫৭৭।

সভা শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবারের ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনায় প্রশাসন, পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ আরও বেশি তৎপর থাকবে। ঈদ উপলক্ষে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ত্যাগ করবে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে এত বিপুল সংখ্যক যাত্রীর যাতায়াত ব্যবস্থাপনা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তারপরও আমাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে সুন্দর ও স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে।

চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সড়কে চাঁদাবাজি বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, ফিটনেসবিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে এবং যাত্রীরা যাতে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, সে লক্ষ্যে বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হবে। পাশাপাশি মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সার্বক্ষণিক কাজ করবে।

তিনি বলেন,‘আমাদের যা আছে, তা শতভাগ দিয়ে আমরা চেষ্টা করব। আশা করছি এবারের ঈদযাত্রা সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে।’

এ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‘গতবার প্রশাসন, মালিক-শ্রমিক, সাংবাদিক ও পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সফলভাবে ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার আরও ভালোভাবে ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনা করা হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধ, নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার মাধ্যমে এবারের ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।’

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। এছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


এফএস