Recent event

নতুন মন্ত্রিসভা: অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করাই বড় পরীক্ষা

মন্ত্রিসভা গঠন
মন্ত্রিসভা গঠন | ছবি: এখন টিভি
0

অর্থনীতির চাকা সচল করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই নব গঠিত মন্ত্রিপরিষদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন বিশিষ্টজনেরা। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত সরকার জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবে বলেও আশাবাদ বিশ্লেষকদের।

দীর্ঘ ২০ বছরের লড়াই সংগ্রামের পর দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেছে বিএনপি। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পরই ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিপরিষদ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিএনপি সরকারের পথচলা।

বিএনপির মহাসচিবের কাঁধে স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব আর স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সামলাবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অর্থ ও পরিকল্পনার দায়িত্ব পেয়েছেন অভিজ্ঞ আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শিক্ষায় আছেন আলোচিত এহসানুল হক মিলন। আইন-বিচার-সংসদ দেখভালের দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান। ২৫ জন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে সরকার। এরমধ্যে ৪০ জনই নতুন। প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়ে প্রথমবারই মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন জোটের প্রার্থী নুরুল হক নূর, জোনায়েদ সাকি ও ববি হাজ্জাজ। তিনজন নারী আফরোজা খানম রিতা, শামা ওবায়েদ ও ফারজানা শারমিন পুতুলও রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদে।

২৪ এর ৫ আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাস দেশ পরিচালনার পর বিএনপি সরকারে কতটা গুছিয়ে উঠতে পারবে? রাজনৈতিক মহলে এমন আলোচনা চলছে। বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ কী হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, শুরুতেই অর্থনৈতিক কাঠামো ও বাজার নিয়ন্ত্রণই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

আরও পড়ুন:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘উত্তরাধিকার সূত্রে তারা একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। ২৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়েই এ সরকারকে যাত্রা শুরু করতে হয়েছে। ব্যবসা বান্ধব পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে নি। কর্মসংস্থানের একটা বড় রকমের চ্যালেঞ্জ আছে। একটা দুর্নীতি কিভাবে এ সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, সুশাসন কিভাবে নিশ্চিত করতে পারবেন। এটা যদি করতে না পরেন তাহলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বা অন্য কোনোটাই কিন্তু সফল হবে না।’

আর্থিক-খাতে সঙ্গতি রক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজন ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ। হয়রানিমূলক মামলা বন্ধসহ সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি বলে মনে করেন সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘এ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গৃহীত অনেক সিদ্ধান্ত হয় বিএনপিকে গ্রহণ করতে হবে অথবা মোডিফাই করতে হবে। অনেকগুলো সাংবিধানিক এবং আইনি প্রশ্ন জড়িত। সুতরাং আইন মন্ত্রণালয়ের একটা বড় দায়িত্ব এখানে আছে। আমাদের দেশে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মিথ্যা ও গায়েবি মামলা যার সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছে বিএনপি। বিএনপির ৬০ লাখ নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এই মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে লড়াই করে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে তারা এসেছে তাই এ সরকারের কাছে কেউ প্রত্যাশা করে না তাদের ইন্ধনে তাদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কেউ মিথ্যা মামলা করবে।’

এছাড়া গ্যাস, জ্বালানি ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহকে শুরুতেই গুরুত্বের তালিকায় রাখছে সরকার।

ইএ