রাস্তায় বাস দাড় করিয়ে রিক্যুজিশন ধরিয়ে দিচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। আসতে হবে ৭ তারিখ। খরচ বলতে শুধু তেল আর ড্রাইভার হেলপারের খাবার খরচ। নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করতে হবে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
ড্রাইভার ও হেলপার জানান, পুলিশ এসে কাগজপত্র নিয়ে স্লিপ কার্ড ধরিয়ে দিয়ে গেছে। ভোটের দিন দায়িত্ব পালন করতে হবে কিন্তু টাকা দিবে না। শুধু দুইবেলা খাওয়াবে। শুধু ২০০ টাকা খাওয়ার জন্য দেয়া হয়।
বাস, মিনিবাস, মাইক্রো ও প্রাইভেট কারে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে এই রিক্যুজিশন বা হুকুম দখল পত্র।
নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকালে ৭ দিনের পরিবহন ভাড়া ও ড্রাইভার হেলপারের বেতন দেবে কে জানে না পরিবহন সংশ্লিষ্ট নেতারাও।
আরও পড়ুন:
সড়ক ও পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এম এ বাতেন বলেন, ‘আমাদের ঠকিয়ে, আমাদের হ্যারেস করে গাড়ি নিবে। সে গাড়ির ভাড়া দিবে না, সঠিক তেলটাও দিবে না। একজন ড্রাইভারকে ৭০০ টাকা দিলে তিনজন লোকের কিভাবে ৭০০ টাকায় খোরাকি হবে?’
১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচনে ১৩ কোটি ভোটারের জন্য ৪৩ হাজার ভোট কেন্দ্রে ১৭ লাখের বেশি ভোট সঙ্গী পৌঁছে দিতে ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে এ সব পরিবহন।
হিসেব বলছে দেশে বর্তমানে ১৭ লাখ ২৮ হাজার ২৭৫ জন মানুষ ভোট গ্রহণ ও নিরাপদ করতে কাজ করবে। ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৪৩ হাজার। যদি বাসে করে এই মানুষদের গন্তব্য পৌঁছে দেয়া হয় তা হলে সবার জন্য দরকার পড়বে ৪৩ হাজার ২০৬ টি ৪০ সিটের বাস।
বাসের হিসেব খাটবে না স্টাকিং ফোর্সদের জন্য। নির্বাহী ম্যাজিস্টেট, যৌথ বাহিনী, র্যাব, বিজিবি ও ব্যাটেলিয়ান আনসারের জন্য সরকারী গাড়ির পাশাপাশি প্রয়োজন পড়বে বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কার। অবশ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ ৪৩ হাজার ২২৫ জন সদস্যের এই খাতে নির্বাচনী বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৫০০ কোটি টাকা।
এই বিপুল পরিমাণ সদস্যদের মধ্যে সব থেকে বেশি দায়িত্ব পালন করবেন আনসার-ভিডিপি। তাদের সংখ্যা ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন।
আনসার ও ভিডিপি মুখপাত্র মো আশিকউজ্জামান বলেন, ‘যেগুলো আমাদের নিজস্ব গাড়ি সেগুলো আমরা মোতায়েন করবো সর্বোচ্চ পরিমাণে সদস্যদের পরিবহণের জন্য। এর পাশাপাশি কিছু গাড়ি জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে রিক্যুজিশন করা হবে।’
ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ভোটের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন থাকবে দেড় লাখের বেশি। তাদের পরিবহন ব্যয় কত?
পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনসের মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনের সময় একটা বাজেট বরাদ্দ হয়। এখন এ বাজেট বরাদ্দের আলোকে গাড়ি বরাদ্দের জন্য যে বাজেটটা থাকে সে গাড়ি হয়তো ক্যাটার করে ব্যবহার করা হবে।’
ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্টাকিং ফোর্স দ্রুত ঘটনাস্থলে যেতে পরিবহন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদিও নির্বাচন কমিশন বলছে পরিবহনের দায়িত্ব ডিসি অফিসের উপর।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘এটার ডেটা আমার কাছে নাই। এটা রিটার্নিং অফিসাররা স্থানীয়ভাবে এটা করছেন।’
আইনশৃঙ্খলা খাতে বরাদ্দের ১৫ কোটি টাকা নির্বাচনি ব্যয়ের একটি বড় অংশ খরচ হবে যাতায়াতে। তবে সেই টাকা গাড়ির মালিক পর্যন্ত পৌঁছাবে কি না সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।





