গুমের শিকার বাবাকে নিয়ে কন্যার আর্তনাদ, অঝোরে কাঁদলেন তারেক রহমান

গুম হওয়া পারভেজের কন্যা ঋদি ও তারেক রহমান
গুম হওয়া পারভেজের কন্যা ঋদি ও তারেক রহমান | ছবি: এখন টিভি
0

কেউ এসেছেন গুমের শিকার বাবাকে হারিয়ে একাকী বেড়ে ওঠার গল্প শোনাতে, কেউ বললেন স্বামী হারিয়ে বছরের পর বছর কীভাবে অবহেলিত জীবন পার করছেন, সেসব কষ্টের দিনযাপনের কথা। কারো কারো কণ্ঠে বিচারবহির্ভূত হত্যা-পৈশাচিক নির্যাতনের শিউরে ওঠা স্মৃতিচারণ। গত ১৬ বছর ধরে গুম-খুন-নির্যাতনের শিকার এসব পরিবারের কষ্টের কথা শোনেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্বজনদের কান্না, আহাজারি আর দীর্ঘশ্বাসে ভারি হয়ে ওঠে সভাস্থল। তাদের আর্তনাদে মঞ্চে বসেই অঝোরে কাঁদলেন তারেক রহমান।

আজ (শনিবার, ১৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিগত গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ কর্তৃক গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। মতবিনিময় সভায় সারা দেশ থেকে আসা গুম, খুন ও বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা অংশ নেন।

বেলা সোয়া ১১টায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি এবং আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি।

অনুষ্ঠানে ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর শাহবাগ থেকে গুম হওয়া পারভেজের কন্যা ঋদি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এ বছর যায়, নতুন বছর আসে, কিন্তু আমাদের বাবা আর আসে না। ৫ আগস্টের পর এক বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেল, কিন্তু আমরা কাউকে ফিরে পাইনি।’

আরও পড়ুন:

এসময় বাবা হারা সন্তানদের কান্না দেখে নিজেও আবেগাপ্লুত হয়ে অঝোরে কাঁদেন তারেক রহমান। ঋদি আরও বলেন, ‘আমার ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার, কিন্তু সে স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি।’

অন্যদিকে মাত্র দুই মাস বয়সে নিখোঁজ হওয়া সাফা তার বাবার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষার কথা জানান। কাঁদতে কাঁদতে সাফা বলেন, ‘আমার বাবার কোনো স্মৃতি নেই, এক দশক ধরে সবাই বাবার জন্য অপেক্ষা করছি, কিন্তু এখনও কোনো খোঁজ পাইনি।’

তিন বছর বয়সে বাবাকে হারানো মিম বলেন, ‘সমবয়সীরা যখন বাবা থেকে হাঁটা শেখে, আমি তখন বাবাকে খুঁজতে বেড়াই।’

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শোকাহত পরিবারগুলোর সঙ্গে সহমর্মিতা প্রকাশ করে বলেন, ‘গুম-খুনের সেই বিভীষিকাময় দিন শেষ হয়েছে। দেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। অনেক সন্তান এখনো অপেক্ষায়, তারা আশা করে তাদের বাবা হঠাৎ করে ফিরে আসবেন। অনেক মা এখনো অপেক্ষায় আছেন, যার সন্তানের ফিরে আসার স্বপ্ন রয়েছে।’

একজন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য জানান, গুম প্রতিরোধে এমন আইন প্রণয়ন করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়। শেখ হাসিনার শাসনামলে অনেকেই গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন।

আরও পড়ুন:

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিভীষিকাময় দিনের বা রাতের অবসান হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। যেসব মানুষরা তাদের স্বজন হারিয়েছেন, যেসব মায়েরা তাদের সন্তান হারিয়েছেন, যেসব বোনেরা তাদের স্বামীকে হারিয়েছেন, যেসব সন্তানেরা তাদের পিতাকে হারিয়েছেন, তাদের সত্যিকারভাবে যদি বলতে হয় আসলে আপনাদেরকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতন ভাষা আমাদের কাছে নেই।’

বিগত সরকারের শাসনামলে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা রাজনৈতিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আমলে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেওয়া প্রতিটি মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। যারা বিগত সময়ে নানাভাবে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা নেই। গুম-খুন ও নানা নির্যাতনের শিকার হয়েও বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথ ছাড়েননি।’

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনসহ শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

এএইচ