একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- ভোটের তারিখ: ৩ নভেম্বর ২০২৬।
- আসন: ৪৩৫ (প্রতিনিধি পরিষদ) + ৩৫ (সিনেট)।
- ট্রাম্পের অবস্থান: রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো মানেই ৩য় বার অভিশংসনের ভয়।
- সংবিধান: প্রতিনিধি পরিষদ অভিশংসন করে এবং সিনেট বিচার করে।
ট্রাম্পের সতর্ক বার্তা ও অভিশংসন ঝুঁকি (Trump’s Warning and Impeachment Risk)
ট্রাম্পও সেই আশঙ্কা থেকেই আজ (বুধবার, ৭ জানুয়ারি) ওয়াশিংটন ডিসিতে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের এক সমাবেশে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন।
ট্রাম্প জানান, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দল যদি প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে তাকে আবারও অভিশংসনের মুখে পড়তে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য তৃতীয় অভিশংসনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি রিপাবলিকানদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে এবং ভোটারদের সক্রিয় করতে চাইছেন।
অভিশংসন প্রক্রিয়া ও মার্কিন সংবিধান (Impeachment Process and US Constitution)
মূলত মার্কিন রাজনীতিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের আসন কমে যাওয়ার এক ধরনের প্রবণতা থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রদ্রোহ, ঘুষ গ্রহণ বা গুরুতর অপরাধ ও অসদাচরণের জন্য প্রেসিডেন্টসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অভিশংসন করার ক্ষমতা প্রতিনিধি পরিষদকে দেয়া হয়েছে। যদি প্রতিনিধি পরিষদে কেউ অভিশংসিত হন, তবে তার বিচার হয় সিনেটে। সেখানে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে দোষী সাব্যস্ত হলে প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করাও সম্ভব।
এ প্রক্রিয়া মার্কিন সংবিধানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করা হয়, যা দেশের শাসনব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য নিশ্চিত করে থাকে।
অভিশংসনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (Historical Context of Impeachment)
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো প্রেসিডেন্টই অভিশংসনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হননি। ১৮৬৮ সালে অ্যান্ড্রু জনসনকে টেনিউর অব অফিস অ্যাক্ট ভঙ্গের অভিযোগে প্রতিনিধি পরিষদ ইমপিচ করলেও সিনেটে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে তিনি সেবার রক্ষা পান। এরপর ১৯৯৮ সালে বিল ক্লিনটন শপথভঙ্গ ও বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেয়ার অভিযোগে অভিশংসিত হলেও সিনেটে খালাস পান তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পই একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি দুইবার অভিশংসনের মুখোমুখি হয়েছেন। প্রথমবার ২০১৯ সালে ইউক্রেন ইস্যুতে (Ukraine Scandal) ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে এবং ২০২১ সালে ক্যাপিটল হিল হামলায় (Capitol Hill Riot) উসকানির অভিযোগে তাকে অভিশংসন করা হয়। তবে উভয় ক্ষেত্রেই সিনেটে প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি।
এছাড়া রিচার্ড নিক্সনের প্রশাসনের সময় তিনি অভিশংসনের মুখে পড়ার আগেই ‘ওয়াটারগেট’ কেলেঙ্কারির (Watergate Scandal) কারণে পদত্যাগ করে ওভাল অফিস ছাড়েন তিনি।
এমন প্রেক্ষাপটেই মধ্যবর্তী নির্বাচনকে নিজের প্রেসিডেন্সির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প।





