সরকারি কোনো কর্মীকে হঠাৎ চাকরিচ্যুত করা যাবে না, তার অভিজ্ঞতা এক বছরের কম সময়ের হলেও তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিতে বলা যাবে না। ডোনাল্ড ট্রাম্পের গণহারে সরকারি কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ফ্রান্সিসকোর ডিসট্রিক্ট জাজ অফিস অফ পার্সোনাল ম্যানেজমেন্টের ক্ষমতাবলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ক্ষমতা কমিয়ে দেন।
একইসঙ্গে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরসহ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ট্রাম্প প্রশাসন হুটহাট কর্মী ছাঁটাই করতে পারবে না বলেও জানানো হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও সরকারি দক্ষতা বিভাগের প্রধান ইলন মাস্কের উদ্যোগে চলছিলো গণহারে সরকারি কর্মী ছাঁটাই কার্যক্রম। যদিও এতে বাঁধা দিচ্ছিল ডেমোক্র্যাটরা। ইউনিয়ন আর সরকারি কর্মীদের মতে, এই ছাঁটাইয়ের কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজে প্রভাব পড়বে। জরুরি পদে নিয়োজিত অনেক কর্মীকে পুনর্বহাল করতেও বাধ্য হয়েছে প্রশাসন।
এদিকে প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে ডিফেন্স সেক্রেটারিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেয়ার কড়া সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রতিরক্ষা সচিবরা। তারা বলছেন, জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যানসহ বাকি কর্মকর্তাদের ছাঁটাইয়ের পদক্ষেপ বিধ্বংসী।
এই বিষয়ে কংগ্রেসকে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়ার দাবিও জানান তারা। অভিযোগ করা হয়, রাজনীতির স্বার্থে দেশের সামরিক বাহিনীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যবহার করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এরমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের হিউম্যান রিসোর্স এজেন্সিকে বলা হয়েছে, ৯ দিনের মধ্যে বেশ কয়েকজন কর্মীকে ওয়াশিংটনে স্থানান্তরের নির্দেশনা এসেছে। বলা হচ্ছে, এটি ফেডারেল কর্মীদের ছাঁটাইয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরেকটি ছক।
বুধবার দূরদূরান্তে কাজ করা অফিস অব পার্সোনাল ম্যানেজমেন্টের কর্মীদের কাছে বার্তা গেছে, যারা ওয়াশিংটন থেকে অনেক দূরে থাকেন, তাদের ওয়াশিংটনে চলে আসার জন্য। এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে আগামী ৭ মার্চের মধ্যে।
জনবিরোধী এসব উদ্যোগের কারণে ট্রাম্পের বিরোধিতা করে রাস্তায় নেমেছেন নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের সরকারি কর্মীরা। তারা বলছেন, কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো টার্গেট হয়েছে ইলন মাস্কের ডোজের। এজেন্সিতে তালা লাগানো হয়েছে। এরইমধ্যে অনেক কর্মীকে ছাঁটাইও করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের পাশের এই ভবনকে সরিয়ে ফেলা হবে, এমন আশঙ্কাও করা হচ্ছে।
নিউইয়র্কের একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘যাদের ছাঁটাই করা হলো, জানি না তাদের স্বাস্থ্যবিমার কি হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেষ করে দেয়া হচ্ছে। অথচ আমরা দেশের জন্য কাজ করতাম।’
অন্য একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘যারা আছি, সবাই শকে আছি। আমাদের অবৈধভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে। জানি না বিনা নোটিশে কোথায় ছাঁটাই করা হয়। কম্পিউটার লক করে দেয়ায় কোন কাগজপত্র নিতে পারছি না।’
এদিকে ৯০ শতাংশের বেশি চুক্তি বাতিলের পর ওয়াশিংটনে ইউএসএআইডি'র প্রধান কার্যালয় ছেড়ে যাচ্ছেন কর্মীরা। জানুয়ারিতে ইউএসএআইডি'র অর্থায়ন প্রকল্প ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করে ট্রাম্প প্রশাসন। এরমধ্য দিয়ে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে নয়, সারাবিশ্বেই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বিপাকে পড়েছে মার্কিন এই সহায়তা সংস্থাটি।