ক্ষমতায় আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম একটি পদক্ষেপ ছিল গভর্নমেন্ট অব এফিশিয়েন্সি বা সরকারি দক্ষতা বিভাগ চালু করা। নতুন এই বিভাগ পরিচালনার দায়িত্ব দেন ঘনিষ্ঠ মিত্র বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ককে। এই বিভাগের প্রধান কাজ হচ্ছে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ ও ব্যয় কমানো।
এরই ধারাবাহিকতায় মাস্কের পরামর্শে ফেডারেল কর্মীদের ছাঁটাই, সরকারি অনুদান ও বিদেশি সাহায্য সংস্থার তহবিল বাতিল ও স্থগিত করে ট্রাম্প প্রশাসন। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সংস্থার আর্থিক লেনদেন তদারকির অনুমতিও পান মাস্ক। এরইমধ্যে ফেডারেল সরকার ও বিভিন্ন সংস্থার কয়েক হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। এর ফলে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি মার্কিন ডলার সাশ্রয়ের দাবি করেছে মাস্কের দক্ষতা বিভাগ।
যদিও ইলন মাস্কের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে এরই মধ্যে বিভিন্ন ফেডারেল আদালতে প্রায় ২০টি মামলা দায়ের করা হয়। ১৪ জন ডেমোক্র্যাট আইনজীবীর একটি জোট মাস্ক ও তার বিভাগের সব কর্মকাণ্ডকে বেআইনি বলে নিষিদ্ধের দাবি জানায়। তাদের যুক্তি মাস্ক ও তার বিভাগ সরকারের অংশ নয়। তার এমন উদ্যোগ শিক্ষাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
তবে মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক তানিয়া চুটকান মাস্কের পক্ষে রায় দিলেন। তিনি বলেন, ‘মাস্কের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার বিষয়ে ডেমোক্র্যাট আইনজীবীরা যথাযথ যুক্তি-প্রমাণ উপস্থানে ব্যর্থ হয়েছেন।’
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজের এক যৌথ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মাস্ক ও তার বিভাগ অসাধারণ কাজ করছে। সরকারি খরচ কমানোর ব্যাপারে মাস্কের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, 'মাস্কের বিভাগ কোটি কোটি ডলারের উৎস খুঁজে পাচ্ছে। এর মাধ্যমে জালিয়াতির হাত থেকে রক্ষা পাবে শত বিলিয়ন ডলার। অপচয় বন্ধ করতে হবে। মাস্ক অসাধারণ কাজ করছে। সে খুবই বুদ্ধিমান একজন ব্যক্তি এবং সে তরুণদের কাছে অনুকরণীয়।'
এদিকে আমলাতন্ত্র ভেঙে জনগণের ইচ্ছা পূরণে কাজ করা এবং সরকারের সংস্কারে ট্রাম্পের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক। এ সময় তিনি বলেন, হোয়াইট হাউজকেও প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রদান করছেন তিনি।
ইলন মাস্ক বলেন, 'প্রেসিডেন্টের ইচ্ছা বাস্তবায়ন না হলে এবং জনগণের প্রতিনিধি না হলে সবই ব্যর্থ হবে। এতে জনগণের ইচ্ছা বাস্তবায়ন হবে না। এর অর্থ দাঁড়াবে আমরা গণতন্ত্রে নয়, আমলাতন্ত্রে বাস করছি। আমার মতে, আমরা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় আমলাতন্ত্রের ওপর চাপ দিচ্ছি, যা ভেঙে দিতে হবে।'
এদিকে ট্রাম্প ও মাস্কের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি এবং টেক্সাসের অস্টিনে বিক্ষোভ করেছেন শত শত মানুষ। তাদের দাবি, মার্কিন সংবিধান লঙ্ঘন করে বেআইনিভাবে কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। এছাড়াও ট্রাম্প প্রশাসন সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করা হয়।