স্পেনের উত্তাপ কয়েক সপ্তাহে একে একে ছুঁয়েছে ফ্রান্স, ইতালি, পর্তুগাল, আলবেনিয়া, বেলজিয়ামকে। জনমানুষের ক্ষোভে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠছে ইউরোপ।
টানা ষষ্ঠ দিনের মতো উত্তাল আলবেনিয়া। দুর্নীতি, বেকারত্ব, শিক্ষার দুর্বল মানের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ক্রমে রূপ নিয়েছে সরকারবিরোধী আন্দোলনে। রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে রাজধানী তিরানা। ক্ষোভের আগুন ছড়িয়েছে অন্যান্য শহরেও। নাশকতার অভিযোগে চলছে ব্যাপক ধরপাকড়। গ্রেপ্তার হয়েছে কয়েকশ’ মানুষ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এডি রামা পদত্যাগ না করা পর্যন্ত রাজপথ ছাড়তে নারাজ বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এডি রামা পদত্যাগ করলেই আমরা থামবো। দেশ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এখানকার জীবনযাত্রা, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার- সবকিছু বহু বছর ধরে অধঃপতনের দিকে গেছে।’
অন্য একজন বলেন, ‘আমি এখন আর ছাত্র নই, কিন্তু চাকরির বাজারে আছি। প্রতিদিন কষ্টটা অনুভব করি। ছাত্ররা দমবে বলে আমার মনে হয় না। বরং পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। দাঙ্গাও হতে পারে।’
অন্যদিকে শহরে শহরে নজিরবিহীন বিক্ষোভ, সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ আর লুটপাটের ঘটনার একদিন পরও থমথমে ফ্রান্স। দেড়শো বছরের পুরনো স্থাপনায় আগুনের ঘটনায় লিমোজি শহরে রোববার অরাজকতার প্রতিবাদ জানান কয়েকশো বাসিন্দা।
আরও পড়ুন:
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে যে এখানে সবার এক হওয়া খুব জরুরি। কারণ যা কিছু ঘটছে, তাতে আমরা হতবাক।’
অন্য একজন বলেন, ‘অবশ্যই বিক্ষোভের অধিকার আছে। রাজপথে নামার প্রশ্নে আমি তো সবার প্রথমে থাকবো। আগেও নেমেছি। কিন্তু তাই বলে ভবন পুড়িয়ে দেবো? পুলিশের ওপর হামলা করবে? এতে লাভ হবে কোনো?’
রাজধানী প্যারিসসহ সারা দেশে শনিবারের প্রাণঘাতী সংঘাতে হতাহত ৬০০ এর বেশি মানুষ। রোববারও প্যারিসের রাস্তায় জ্বলেছে আগুন। এ পর্যন্ত আড়াই হাজার মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে। নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বিচারের আওতায় আনার হুঁশিয়ারি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘উগ্র-বামপন্থী ভিন্নমতাদর্শীরা, বিপুলসংখ্যক অপরাধীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে আমাদের শহরগুলোতে লাগামহীন সহিংসতা চালিয়েছে। দোকানপাট লুট করেছে। সরকারি ভবন-দোকানপাটে হামলা চালিয়েছে। ভুক্তভোগীদের সহযোগিতা করবে সরকার। ধ্বংসলীলা চালিয়েছে যারা, তাদের মাশুল গুণতেই হবে। দেশকে যারা অসম্মান করেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনী।’
ইতালির মিলানে টানা দ্বিতীয় দিন পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায় বিক্ষোভকারীরা। সহিংস বিক্ষোভ ও জ্বালাওপোড়াও হয় কয়েকটি শহরে। চলে ব্যাপক ধরপাকড়। সহিংস বিক্ষোভের নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আর স্বল্প মজুরির প্রতিবাদে ২০ নভেম্বর দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ইতালির সবচেয়ে বড় শ্রমিক ইউনিয়ন।
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনেও রাজপথে বিক্ষুব্ধদের অবস্থান অব্যাহত রয়েছে।




