পুতিনের বাসভবনে হামলার প্রতিশোধ: ইউক্রেনে ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে রাশিয়া

‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র | ছবি: বিবিসি
0

পুতিনের বাসভবনে হামলার প্রতিশোধ নিতে ইউক্রেনে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে রাশিয়া। পুতিনের দাবি, শব্দের চেয়ে ১০ গুণ দ্রুতগামী মাঝারি পাল্লার এ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত প্রতিহত করার ক্ষমতা নেই কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার। কী আছে এ ক্ষেপণাস্ত্রে? কেনই বা এর সক্ষমতা নিয়ে এত বড়াই মস্কোর?

গেল ডিসেম্বরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকারি বাসভবনে ড্রোন হামলার জন্য কিয়েভকে দায়ী করে মস্কো। ইউক্রেন এ হামলার দায় স্বীকার না করলেও প্রতিশোধের দিন গুনছিল রাশিয়া। গেল শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ইউক্রেন ও ইইউর সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সীমান্তের কাছে ওরেশনিক নামের মাঝারি পাল্লার এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে রুশ সেনারা।

ক্রেমলিনের দাবি, শব্দের চেয়ে ১০ গুণ দ্রুতগামী এ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত প্রতিহত করার সক্ষমতা নেই কোনো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার। ২০২৪ এর নভেম্বরের পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বার কিয়েভে আঘাত হানতে বিধ্বংসী এ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করলো মস্কো। প্রথমবার ডামি ওয়ারহেড ব্যবহার করা হলেও, শুক্রবারই প্রথম ইউক্রেনে পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে আঘাত হানে ওরেশনিক।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক জেফরি লুইস বলেন, ‘ক্ষেপণাস্ত্রটি একইসঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরক ফেলতে পারে। আন্তঃমহাদেশিয় পাল্লার সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো এটিও একইভাবে কাজ করে। কৌশলটি হচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্রটির একটি অংশ যাকে “বাস” বা “বাহক” বলা হয়, সেটি কৌশলে মহাকাশে চলাচলে সক্ষম। এবং সেখান থেকেই এটি একে একে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বিস্ফোরক ফেলে দেয়।’

আরও পড়ুন:

ওরেশনিক শব্দের অর্থ হ্যাজেল গাছ। ক্ষেপণাস্ত্রটি দেখতেও ডালপালা আর পাতার গুচ্ছ ছড়িয়ে থাকা হ্যাজেল গাছের কাণ্ডের মতো দেখতে। সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ওরেশনিক। আন্তঃমহাদেশিয় ক্ষেপণাস্ত্র না হলেও বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক মিসাইল এটি। পারমানবিক বিস্ফোরকও বহন করতে সক্ষম হওয়ায় সহজেই পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রতে রূপান্তর করা যায় ওরেশনিককে।

২০২৪ সালে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার সময় লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ওরেশনিকের সময় লেগেছিল মাত্র ১৫ মিনিট। গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কিলোমিটার। ওই একই বছর থেকে রেশনিকের ধারাবাহিক উৎপাদন শুরু করেছে রাশিয়া এবং সরবরাহ করছে মিত্র দেশ বেলারুশকে।

যদিও মস্কোর দাবি পুরোপুরি সঠিক নয় বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক। তাদের দাবি, ইসরাইলের এরো থ্রি বা যুক্তরাষ্ট্রের এসএম থ্রি- ঘায়েল করতে পারবে ওরেশনিককে। ইউক্রেনকে মনস্তাত্ত্বিক ভয় দেখানোর কৌশল হিসেবে এ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, কারণ ভীষণভাবে কোণঠাসা না পড়লে এত ব্যয়বহুল অস্ত্র ব্যবহার করবে না রাশিয়া।

এসএস