এশিয়া
বিদেশে এখন

হাসিমুখেই ট্রলের জবাব দিচ্ছেন প্রাচী নিগম

আগে দর্শন, তারপর গুণ বিচার; ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের যুগে এ যেন হয়ে উঠেছে এক নির্মম সত্য। তাই তো বোর্ড পরীক্ষায় ৯৮ দশমিক পাঁচ শতাংশ নম্বর পাওয়া প্রাচী নিগমের মেধার বদলে গোটা ভারতে তার রূপ নিয়ে আলোচনা চলছে। চরমভাবে ট্রলের শিকার হলেও হাসিমুখে জবাব দিয়ে পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন তিনি।

বিউটি পার্লার, ইনস্টাগ্রাম আর ক্যামেরায় ফিল্টারের যুগে স্মার্টফোন-কম্পিউটারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোক বা টেলিভিশন পর্দা, যেদিকে চোখ যায়, শুধু নিখুঁত মুখচ্ছবি। হয়তো তাই বলিরেখা, দাগ বা লোমশ ত্বক মানবদেহের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হলেও অকৃত্রিম এই রূপেই কুঁচকে ওঠে বাকিদের চোখ।

ভারতের উত্তর প্রদেশে দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে সাড়া ফেলে দেয়া প্রাচী নিগমের কথা বলছিলাম। ১৫০ কোটি মানুষের দেশ ভারতের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ রাজ্য উত্তর প্রদেশে তুমুল প্রতিযোগিতায় সকলকে টপকে গেছে এই কৃতি শিক্ষার্থী। ৬শ'তে ৫৯১ নম্বর পেয়ে লাখো শিক্ষার্থীকে পেছনে ফেলেছে নিগম। এগিয়ে যাওয়ার জন্য যতোটা না আলোচিত, তার চেয়ে বেশি সমালোচিত হচ্ছেন মুখের ত্বক লোমশ বলে।

প্রাচী নিগম বলেন, উত্তর প্রদেশে ৯৮.৫০ শতাংশ নম্বর পেয়েছি আমি। অনেক মানুষ আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, সাহস যুগিয়েছেন। উত্তর প্রদেশ বোর্ড পরীক্ষার ফল ঘোষণার পর আমার ছবিটি ভাইরাল হয়। যারা আমাকে সাহস দিয়েছেন, তাদের ধন্যবাদ। আর যাদের মনে হচ্ছে, এ কেমন ছবি কিংবা এ কেমন মেয়ে, তাদের কমেন্টে তাদের মানসিকতা বেরিয়ে এসেছে।

গত ২০ এপ্রিল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর টপার হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রাচীর ছবি ভাইরাল হয়। একদিকে অনন্য অর্জনের জন্য প্রশংসার বন্যায় ভাসলেও অন্যদিকে নিজের বাহ্যিক রূপ নিয়ে তাকে তীব্র হেনস্তাও হতে হয়। তবে এসবের কিছুই আমলে না নিয়ে বেশ বিনয়ের সাথেই ট্রলের জবাব দেন প্রাচী নিগম।

প্রাচী নিগম আরও বলেন, চেহারা দেখে বৈষম্য করা ব্যক্তিদের অভিনন্দন। আমার কিছু যায়-আসে না তাদের কথায়। ভারতে এমন অনেক উদাহরণই আছে যে সৃষ্টিকর্তা যেভাবে বানিয়েছেন, সেটাই নমস্য। যাদের চেহারা নিয়ে সমস্যা, তারা তাদের মতো বলতে থাকুক। রূপের জন্য চাণক্যও তাচ্ছিল্যের শিকার হয়েছিলেন, কিন্তু তা আমলে নেননি। আমিও আমার পড়াশোনাকেই প্রাধান্য দিচ্ছি।’

ভারতে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিদ্যায় উচ্চশিক্ষার জন্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের বিশাল নেটওয়ার্ক ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি)। উচ্চ মাধ্যমিক পার করে সর্বভারতীয় পরীক্ষায় সফল হলে তবেই বিশ্বখ্যাত আইআইটিতে পড়ার সুযোগ পান অধ্যবসায়ীরা। যে তালিকায় আছেন প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাইসহ বাঘা বাঘা সব নাম। সে দলেই ভিড়তে চান প্রাচী। শিক্ষা অর্জনের পথে লেগে থেকে স্বপ্নপূরণের দৌড়ে নাম লেখানো প্রাচীর সঙ্গে কথা বলে উৎসাহ দিয়েছেন ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর