যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত কিছু নথির বরাতে হুথিরা জোর প্রচারণা চালাচ্ছে যে সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফের কিছু অংশ উপহার হিসেবে এপস্টেইনের ক্যারিবীয় দ্বীপের ব্যক্তিগত প্রাসাদে পাঠিয়েছিলেন। ইয়েমেনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণকারী হুথিরা পশ্চিমা বিশ্বের গণমাধ্যমের খবরাখবর গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং সৌদি আরবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এসব তথ্য বিভিন্ন ভিডিও, গান, ব্যঙ্গাত্মক নাটক ও ধর্মীয় বক্তৃতায় ব্যবহার করছে।
এর আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ তুলেছিল যে হুথিরা মুসলমানদের পবিত্র নগরী মক্কায় ড্রোন হামলা চালিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। তবে হুথিরা এ অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে পাল্টা জবাব দেয়। হুথিদের রাজনৈতিক প্রধান মাহদি আল-মাশাত বলেন, ‘যারা এপস্টেইনকে পবিত্র কাবার গিলাফ দিয়েছিল, তারাই মূলত মক্কাকে নিশানা করছে।’ মার্কিন বিচার বিভাগের নথিতে কাবা শরিফের গিলাফ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের পর সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের এই প্রচারযন্ত্র এখন অত্যন্ত সুসংগঠিত। টেলিভিশন, রেডিও ও ওয়েবসাইটের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সারদের একটি বড় নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে তারা। এমনকি ইয়েমেনি কমেডিয়ান মুস্তফা আল-মোমরের মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বরাও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে ব্যঙ্গ করে ভিডিও তৈরি করছেন।
হুথিদের শীর্ষ নেতা আবদুল মালিক আল-হুথি প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ভাষণে এপস্টেইন প্রসঙ্গ টেনে আনছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলা উদযাপন এবং সানার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার বর্ষপূর্তির বক্তব্যেও তিনি এই প্রসঙ্গ তোলেন। এর মাধ্যমে তিনি পশ্চিমা বিশ্ব, ইসরাইল ও সৌদি আরবকে একই সূত্রে গাঁথা দুর্নীতিগ্রস্ত শক্তি হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করছেন।
কৌশলগত দিক থেকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নিজেদের এই লড়াইকে যুক্তরাষ্ট্র ও কথিত ‘এপস্টেইন শ্রেণি’র বিরুদ্ধে বৃহত্তর যুদ্ধ হিসেবে প্রচার করছে হুথিরা। ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে রিয়াদকে ইহুদিদের দোসর হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চলছে।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর সৌদি আরবের সঙ্গে হুথিদের লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, সংঘাত নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার পর আড়াই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৬০০ মানুষ। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গন ও আরব বিশ্বের সহানুভূতি পেতে এপস্টেইন কাণ্ডকে অন্যতম বড় মনস্তাত্ত্বিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে চলেছে হুথিরা।





