পশ্চিম তীরে ‘কয়েক দশকে দেখা যায়নি এমন’ সামরিক অভিযানের হুমকি নেতানিয়াহুর

বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সফরকে কেন্দ্র করে হেবরনে টহল দিচ্ছেন ইসরাইলি সেনারা
বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সফরকে কেন্দ্র করে হেবরনে টহল দিচ্ছেন ইসরাইলি সেনারা | ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
0

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে বন্দুকধারীদের হামলায় দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার পর সেখানে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। আগামী মঙ্গলবার ইসরাইলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঠিক কয়েক দিন আগে আজ (শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর) হেবরন শহরের কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে ফ্রান্স ২৪ এর প্রতিবেদন এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ (শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর) সকালে হেবরনের কাছে ফারশ আল-হাওয়া তল্লাশিচৌকিতে দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর সঙ্গে ইসরাইলি বাহিনীর তীব্র বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে দুই হামলাকারী নিহত হন। ঘটনাস্থলে একটি পেট্রোল পাম্পের পাশে হামলাকারীদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে ইসরাইলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করে, এ ঘটনায় তাদের দুই সেনা নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন।

ঘটনার পর হেবরন পরিদর্শনে গিয়ে নেতানিয়াহু জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজের সঙ্গে আলোচনা করে তারা পশ্চিম তীরে ১৯৬৭ সালের পর সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছেন। নেতানিয়াহু বলেন, ‘সেনাবাহিনী এটি বাস্তবায়নে প্রস্তুত এবং আমরা উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করব।’ এই অভিযানের প্রথম ধাপে সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়া, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো এবং বিভিন্ন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

হামলার জেরে পুরো পশ্চিম তীর অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন নেতানিয়াহু। নির্বাচনকে সামনে রেখে শুক্রবার তার দল লিকুদ পার্টির সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটও সেনাদের তৎপরতার প্রশংসা করেছেন।

এদিকে হামলার পর ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে গাজার মতো সর্বাত্মক সামরিক অভিযান চালানো এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি বিলুপ্ত করার দাবি তুলেছেন ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। একই ধরনের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। তবে এই হামলায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি।

হামলার দায় সরাসরি স্বীকার না করলেও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস একে ‘বীরত্বপূর্ণ অভিযান’ বলে প্রশংসা করেছে। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, এটি দখলদার বাহিনীর অপরাধযজ্ঞের বিরুদ্ধে ‘স্বাভাবিক ও বৈধ প্রতিক্রিয়া’।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনী ও কট্টর বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ১ হাজার ১১৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের হামলায় প্রাণ গেছে অন্তত ৪৯ জন ইসরাইলির।

এএম