ইসরাইলের নির্বাচনের আগমুহূর্তে ‘যুদ্ধবাজ’ নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের সমর্থন

নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প
নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
0

ইসরাইলের নির্বাচনের আগমুহূর্তে যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানালেন ট্রাম্প। তাকে শক্তিশালী, সাহসী ও মেধাবী উল্লেখ করে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে নেতানিয়াহু সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ইরান মিশন এখনও শেষ হয়নি। এদিকে, বিরোধী নেতাদের মতে, এবারের নির্বাচনে ২১ শতাংশ সংখ্যালঘু আরব ভোটারদের উপস্থিতিই নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে।

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে প্রথম ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই হামলার জেরে ইসরাইলি আগ্রাসনে ধ্বংসের মুখে গাজা উপত্যকা। অশান্তি ও অস্থিরতায় ডুবেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে। গাজা ছাড়াও, লেবানন ও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছে ইসরাইল।

ইসরাইলের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই অধ্যায়ের পর বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকবেন কিনা তা নির্ধারণের সময় এসেছে। নিজ দেশেই যুদ্ধবাজ হিসেবে তকমা পেয়েছেন নেতানিয়াহু। জনমত জরিপেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। অন্যদিকে নতুন যুগের সূচনা করার প্রতিশ্রুতি দেয়া মধ্যপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বীরা উঠে এসেছেন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে।

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভোটের মাত্র সপ্তাহখানেক আগে যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহুকে পূর্ণ সমর্থনের ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক মাধ্যমের এক পোস্টে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পাশে থাকার জন্য নেতানিয়াহুকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ট্রাম্প। তাকে শক্তিশালী, সাহসী ও মেধাবী নেতা হিসেবে আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহু সরকার ইসরাইলিদের হতাশ করবে না।

ট্রাম্পের সমর্থন পেয়ে অনেকটা আত্মহারা ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান তিনি। ট্রাম্পের সমর্থনের পর এক ভিডিও বার্তায় সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ইরান এখনো ইসরাইলের জন্য হুমকি। ইরানকে চিরতরে নির্মূল করতে তার সরকারে আসা জরুরি।

আরও পড়ুন:

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘যেসব ইসরাইলি নাগরিক কাকে ভোট দেবেন তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন, তাদের উদ্দেশে বলছি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যা বলেছেন তা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। তিনি আমাকে দ্ব্যর্থহীন সমর্থন দিয়েছেন এবং এর কারণও ব্যাখ্যা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ইসরাইলের অসাধারণ অর্জন সম্ভব। একসঙ্গে ইরানকে চূর্ণ, তাদের অক্ষশক্তিকে নিশ্চিহ্ন ও পারমাণবিক হামলার হুমকি প্রতিহত করেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র।’

এদিকে, ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নেতারা বলছেন, নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ভর করছে সংখ্যালঘু আরব সম্প্রদায়ের ভোটের ওপর। বংশগতভাবে ফিলিস্তিনি হলেও নাগরিকত্বে ইসরাইলি এমন ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২১ শতাংশ। সরকার গঠনেও জোটসঙ্গী হিসেবে সংখ্যালঘু সরকারকে টিকিয়ে রাখতে হবে।

সংখ্যালঘু এসব ভোটারদের সবাইকে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানাচ্ছে নেতানিয়াহু-বিরোধী জোটগুলো। তাদের মতে, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার অন্যতম হাতিয়ার হচ্ছে আরব ভোটাররা। আগের দুইবারের তুলনায় এবার আরব ভোটারদের উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়েও সংশয় জানিয়েছেন অনেকে।

কার্যকর সরকার গঠনে কোনো জোট ব্যর্থ হলে ইসরাইলে তৈরি হতে পারে রাজনৈতিক অচলাবস্থার। যার ফলে ২০২৭ সালে নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর তার আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে থাকবেন নেতানিয়াহু নিজেই।

সবশেষ জনমত জরিপে। নেসেটের ১২০টি আসনে ৫২টি আসন জয়ী হবে বিরোধী আইজেনকোটের ব্লক। আর নেতানিয়াহুর ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী ব্লক পাবে ৫০টি আসন। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনকে ইসরাইলের দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ওপর গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এফএস