গত এক দশকে বুরকিনা ফাসোয় চালের চাহিদা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। তবে চাহিদার প্রায় অর্ধেক চালই দেশটিকে আমদানি করতে হয়। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধিকে জাতীয় অগ্রাধিকার ঘোষণা করে দেশটির বিজ্ঞানীরা এই ধান প্রজনন কর্মসূচি হাতে নেন।
গবেষকেরা ‘মিউটেশন ব্রিডিং’ বা বিকিরণ প্রয়োগে কৃত্রিম জিনগত রূপান্তর প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন জাতগুলো উদ্ভাবন করেছেন। এ পদ্ধতিতে রেডিয়েশনের মাধ্যমে উদ্ভিদের স্বাভাবিক জিনগত পরিবর্তনের গতি বাড়িয়ে পছন্দসই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন নতুন লাইন তৈরি করা হয়। গবেষণাগারে সফলতার পর দেশটির বামা ও বানজোন এলাকার প্রদর্শনী খেতসহ স্থানীয় চাষিদের জমিতে জাতগুলো যাচাই করা হয়।
দেশটির জাতীয় ক্যাটালগে থাকা প্রচলিত জাতগুলোতে হেক্টরপ্রতি ফলন যেখানে চার থেকে ছয় টন, সেখানে নতুন জাতগুলোতে হেক্টরপ্রতি নয় থেকে ১১ টন পর্যন্ত ফলন মিলছে। বানজোন এলাকার একটি প্রদর্শনী খেতে একটি জাতে হেক্টরপ্রতি ১১ দশমিক ৭৬ টন পর্যন্ত উৎপাদন পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রচলিত জাতের তুলনায় নতুন জাতগুলোর পরিপক্ব হতে সময় লাগে মাত্র ৯৫ থেকে ১০৬ দিন।
কেবল ফলন বাড়ানোই নয়, ভোক্তাদের পছন্দের বিষয়টিও নতুন জাতগুলোতে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নতুন আট জাতের মধ্যে দুটি বড় দানার, দুটিতে প্রতিরোধী স্টার্চের পরিমাণ বেশি এবং একটি আঠালো প্রকৃতির ধান। এ বিষয়ে জোসেফ কি-জারবো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ইমায়েল অঁরি নেস্তোর বাসোলে বলেন, ‘আইএইএ ও এফএওর সহায়তায় গড়ে তোলা সক্ষমতার ফলে আমরা এমন ফসলের উন্নয়ন ঘটাতে পারছি, যা পরিবর্তিত আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে কৃষক ও ভোক্তার চাহিদা মেটাতে পারে।’
২০২৫ সালের জুনে বুরকিনা ফাসোর ন্যাশনাল ক্যাটালগ অব প্ল্যান্ট স্পিসিস অ্যান্ড ভ্যারাইটিজে আটটি জাত আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়। বর্তমানে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে উন্নত জাতগুলোর বীজ উৎপাদনের উদ্যোগ চলছে। এফএও ও আইএইএর খাদ্য ও কৃষিতে পারমাণবিক প্রযুক্তিবিষয়ক যৌথ কেন্দ্রের পরিচালক ডংক্সিন ফেং বলেন, খাদ্যনিরাপত্তার সংকট মোকাবিলায় এবং জাতীয় পর্যায়ের গবেষণার সক্ষমতা বাড়াতে পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, বুরকিনা ফাসোর অগ্রগতি তার বড় প্রমাণ।





