ইউক্রেন সীমান্তে নিরাপত্তা অঞ্চল গড়ার ঘোষণা পুতিনের

ইউক্রেন সীমান্তে নিরাপত্তা অঞ্চল গড়ার ঘোষণা পুতিনের
ইউক্রেন সীমান্তে নিরাপত্তা অঞ্চল গড়ার ঘোষণা পুতিনের | ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
0

ইউক্রেনের সীমান্ত ঘেঁষে একটি অনমনীয় ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ তৈরির কাজ সফলভাবে এগিয়ে চলছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কিয়েভের সঙ্গে কোনো সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় এই এলাকা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা মস্কোর নেই। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সামরিক পোশাকে একটি কমান্ড পোস্ট পরিদর্শনের সময় টেলিভিশনে দেয়া বক্তব্যে পুতিন বলেন, ২০২৪-২৫ সালে রাশিয়ার পশ্চিমের কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীকে কেবল নিজেদের ভূখণ্ড থেকে শত্রু বিতাড়ন করতেই বলা হয়নি, বরং সংলগ্ন এলাকায় একটি নিরাপত্তা অঞ্চল গড়ে তোলার দায়িত্বও দেয়া হয়েছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, প্রস্তাবিত এই নিরাপত্তা অঞ্চলটি প্রায় ৬৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ, যার ৭০ শতাংশের নিয়ন্ত্রণ ইতিমধ্যেই রাশিয়ার হাতে এসেছে। তবে ইউক্রেনের ভেতরে এটি কতটা গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে, তা নির্দিষ্ট করেননি তিনি। সুমি ও খারকিভ অঞ্চলের ভূখণ্ড কেড়ে নিয়ে রাশিয়ার অনধিভুক্ত সীমান্ত এলাকায় এই অঞ্চল গঠন করা হচ্ছে।

এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় স্বার্থের দোহাই দিয়ে রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাস হওয়া নতুন একটি বড় নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ স্থগিত করেছেন। ট্রাম্প যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রকাশ্য সমালোচনা করছেন, তখনই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে রাশিয়ার ওপর থেকে অনেক বাধা ও শুল্ক মওকুফ করলেন তিনি। এর পাশাপাশি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার তথাকথিত ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ ব্যর্থ হওয়ার পর ইউক্রেন কর্তৃক রাশিয়ার তেল শোধনাগারে পুনরায় হামলা চালানোকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প।

এদিকে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনীর স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, হোয়াইট হাউসের নির্দেশে সেবাটি সীমিত বা সংকুচিত করা হয়েছে। ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে ব্রাসেলসে বৈঠককালে আগামী বছর রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার জন্য ইইউর কাছে আরও ৭ হাজার কোটি ইউরো সহায়তা চেয়েছেন জেলেনস্কি।

রণক্ষেত্রে রাশিয়া হামলা আরও তীব্র করেছে। ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে রুশ বিমান হামলায় এক অ্যাম্বুলেন্স চালক নিহত এবং শিশুসহ ১৯ জন আহত হয়েছেন বলে শনিবার জানিয়েছেন গভর্নর ওলেক্সান্দর প্রোকুদিন। এর আগে শুক্রবার ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ড্রোন ও মিসাইল হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং ৬০ জন আহত হন। ইউক্রেনের জ্বালানি ব্যবস্থায় অব্যাহত হামলায় ১০ লাখের বেশি ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে এবং দুটি বিপণিবিতান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

খারকিভের তিনটি জেলায় হামলায় দুজন নিহত ও ১২ জন আহত হন। দোনেৎস্কের ক্রামাতোরস্কে দুজন এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে দুজন নিহত হন। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ভোলিন অঞ্চলে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হন এবং ৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। কোভেল শহরে একটি কাস্টমস টার্মিনালে হামলা চালিয়ে ১০টি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। সুমি ও রিভনে অঞ্চলেও একাধিক বিপণিবিতানে ড্রোন আঘাত হানে।

কিয়েভ ও খারকিভের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে রাশিয়ার ধারাবাহিক মিসাইল ও ড্রোন হামলায় জনজীবন চরম স্থবির হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় শুক্রবার জানিয়েছে, ইউক্রেনে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে অন্তত ৩২৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ২,১০৫ জন আহত হয়েছেন, যা আগের বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ৮৫ শতাংশ বেশি। জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশনের প্রধান ড্যানিয়েল বেল বলেন, ‘অক্টোবরের প্রথম দুই সপ্তাহ ছিল বিগত কয়েক বছরের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী সময়।’

এএম