গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাইকে চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর নিউ ইয়র্কের সিরাকিউসে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, এই ‘রহস্যময় ব্যক্তির’ নাম তিনি কখনো শোনেনইনি। একই সঙ্গে নরওয়েকে হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এটি ভুলে যাব না।’
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে আসছেন। ২০২৫ সালে ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো এই পুরস্কার পাওয়ার পরও একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সে সময় নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গায়ার স্টোরে ট্রাম্পকে বুঝিয়েছিলেন যে পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্তটি নরওয়ে সরকার নয়, বরং একটি স্বাধীন কমিটি নিয়ে থাকে।
সমাবেশে ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেন, তিনি আটটি যুদ্ধের সমাধান করেছেন এবং আরও দুটি যুদ্ধের সমাধান করতে যাচ্ছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘গণতন্ত্রবিরোধী ও সভ্যতার শত্রু একদল উগ্র মতাদর্শী নোবেল শান্তি পুরস্কারকে স্থায়ীভাবে কলঙ্কিত করেছে।’
এদিকে শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রসারে অবদানের জন্য ৮৫ বছর বয়সী দক্ষিণ আফ্রিকান সাবেক আইনি কর্মকর্তা নাভি পিল্লাইকে নোবেল দেয়া হয়েছে বলে জানায় নোবেল কমিটি। জার্মানির নুরেমবার্গে অবস্থানরত পিল্লাই এই খবর শুনে রসিকতা করে বলেন, ‘এটি নিশ্চয়ই কোনো কৌতুক।’ সমবেতদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা যদি আরেকটু বেশি তালি দেন, তবে আমি এই পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি।’
গত বছর ট্রাম্প নোবেল না পাওয়ায় হোয়াইট হাউস থেকেও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে ভেনেজুয়েলার নেত্রী মাচাদো ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের নোবেল মেডেলটি তাকে উপহার দেন। তবে নোবেল কমিটি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, নোবেল পুরস্কার হস্তান্তরযোগ্য নয় এবং এই সিদ্ধান্ত চিরন্তন।





