ইয়েমেনে ফের সংঘাত, এডেন-রিয়াদে হুথিদের হামলা

বোমা বিস্ফোরণ
বোমা বিস্ফোরণ | ছবি: সংগৃহীত
0

পূর্ণ শক্তি নিয়ে আবারও লড়াই শুরু ইরানপন্থী হুথি বিদ্রোহীদের। ইয়েমেনের এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রিয়াদে একযোগে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। রাজধানী সানাসহ অন্যান্য অঞ্চলেও হামলা অব্যাহত রয়েছে। যদিও, তাইজের সর্বোচ্চ চূড়া, ধুবাব, হুদেইদাহসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হুথিদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়ার দাবি করেছে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি জোট। এদিকে, সামরিক বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে হুথিবিরোধী নতুন অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন ইয়েমেনি প্রেসিডেন্ট।

হুথিদের অগ্রযাত্রা ও ব্যাপক হামলার মুখে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট পাল্টা ‘অপারেশন ইয়েমেন ডন’ শুরু করেছে। যাতে সহায়তা দিচ্ছে সৌদি আরবের অন্তত একশো যুদ্ধবিমান।

হুথিদের হটিয়ে কৌশলগত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির উত্তরের ধুবাব শহরসহ মোখা অঞ্চলের পুনর্নিয়ন্ত্রণের দাবি করেছে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী। ডন অব ইয়েমেন অভিযানের মাধ্যমে তাইজের সর্বোচ্চ চূড়ার নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেয়ার দাবিও করেছে যৌথ বাহিনী।

ইয়েমেন সরকারের দাবি, মোখা শহর ও গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির উপকূল এখনো তাদের দখলে রয়েছে। এছাড়া, ধুবাব জেলার বিমানঘাঁটি ও লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী হুদাইদাহ প্রদেশ ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে হুথিদের পরাজিত করেছে তারা। এছাড়া সৌদি সরকার, রিয়াদের দক্ষিণে হুথিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের খবর দিয়েছে।

তবুও, থেমে নেই লড়াকু ইরানপন্থী হুথি বাহিনী। সানা, সাদাহ, হুদাইদাহ এবং তাইজ শহরের আশেপাশে দু'পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে। বন্দর নগরী এডেনের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুথিরা। হামলায় কোন হতাহতের খবর মেলেনি। তবে হামলায় বিমানবন্দরের রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াতে কায়রো থেকে আসা একটি ফ্লাইট জেদ্দায় ঘুরে যেতে বাধ্য হয়।

আরও পড়ুন

সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের সব সফলতার দাবিকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়েছে ২০১৪ সাল থেকে সানাসহ ইয়েমেনের অনেক জনবহুল এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী হুথি। হুথিদের পালটা দাবি, তারা সৌদি আরবের রিয়াদে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এছাড়া, সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আরামকো তেল শোধনাগার, আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইত সামরিক ঘাঁটিতেও হামলার দাবি গোষ্ঠীটির।

পাশাপাশি, মঙ্গলবার সাউদার্ন জায়ান্টস ব্রিগেডের পক্ষ থেকে এক্স-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওতে, হুথি যোদ্ধাদের সামরিক ট্রাকে চড়ে ধুবাব জেলায় প্রবেশ করতে দেখা যায়।

অন্যদিকে, দু’পক্ষের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রশাদ আল-আলিমি। হুথিদের কাছ থেকে দেশের বাকি অংশ ও রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের জন্য নতুন সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। আল-আলিমির দাবি, সংঘাত নিরসনে সব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ। এখন সামরিক পদক্ষেপই একমাত্র বিকল্প।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইয়েমেনি বাহিনী লড়াই তীব্র করায় বাব আল-মান্দেবে হুথিদের অগ্রগতির উল্টো চিত্র দেখা গেলেও, এ অঞ্চলে ইরানের প্রভাব আরও গভীর হয়েছে। ইয়েমেনের অন্যান্য অঞ্চলসহ সৌদির বিভিন্ন স্থানে ইরানের মদদপুষ্ট হুথিদের লড়াই দেখিয়ে দিচ্ছে, এখনও চূড়ান্ত অর্জন থেকে অনেকটা দূরে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার।

জেআর