‘ভেবেছিলাম মারাই যাবো’—ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে যাত্রীদের ভয়ংকর হামলা মোকাবিলার ভেতরের কথা

ফ্লাইদুবাইয়ের আরেকটি ফ্লাইটে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে নামছেন যাত্রীরা
ফ্লাইদুবাইয়ের আরেকটি ফ্লাইটে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে নামছেন যাত্রীরা | ছবি: সংগৃহীত
0

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশে এক পাইলটকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। তবে যাত্রী ও ক্রুদের সাহসিকতায় হামলাকারীকে আটকে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়।

গতকাল (বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর) এর এই ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন উড়োজাহাজটিতে থাকা ১৭৪ জন যাত্রী। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, এক পাইলট তার সহকর্মীকে ছুরিকাঘাত করে বিমানের ব্যবস্থা ধ্বংস করার চেষ্টা করেন। এতে বিমানটি মাত্র দুই মিনিটে ১৭ হাজার ৪০০ ফুট নিচে নেমে যায়। সকাল ৮টা ৩১ মিনিটে বিমান থেকে ছিনতাইয়ের বিপৎসংকেত পাঠানো হয়।

ছুরিকাঘাতের শিকার পাইলটের নাম স্মিত মাচছার। তিনি ভারতের নাগরিক। সহ-পাইলট তাকে ছুরিকাঘাত করলে ককপিটে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় উড়োজাহাজটি হঠাৎ নিচে নামতে শুরু করলে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মিকা বাউমান নামের এক যাত্রী বলেন, ‘আমি নিশ্চিত ছিলাম যে আমি মারা যাব।’

এরপর যাত্রীরা ককপিটের দিকে ছুটে যান। ইয়ানিভ হায়ুন নামের এক যাত্রী জানান, তিনি ও অন্যরা মিলে হামলাকারীর গলা চেপে ধরে ককপিট থেকে বের করে আনেন। পেশায় পাইপমিস্ত্রি ইয়ানিভ উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেয়ারও চেষ্টা করেন। ড. শোতা মুসায়েভ নামের এক দন্তচিকিৎসক হেডফোনের তার ও প্লাস্টিকের জিপটাই দিয়ে হামলাকারীকে বেঁধে ফেলেন। এরপর তিনি আহত পাইলটের চিকিৎসা শুরু করেন। শোতা মুসায়েভ জানান, পাইলটের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল, তার হাত প্রায় দুভাগ হয়ে গিয়েছিল।

বিমানে থাকা অন্য দুজন রিজার্ভ পাইলট শেষ পর্যন্ত বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং সকাল ৯টা ৫৪ মিনিটে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করান। আহত পাইলট ও হামলাকারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইসরাইলের এক কর্মকর্তা জানান, সন্দেহভাজন হামলাকারী ওমানের নাগরিক। যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইটে করে ইসরাইলে পাঠানো হয়েছে। ইসরাইলের শিন বেত, মোসাদসহ বিভিন্ন সংস্থা এবং সৌদি আরব ঘটনাটি তদন্ত করছে।

এএম