কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো জানান, রাজধানী ও এর উত্তরাঞ্চলীয় শহরতলিতে রাতভর চালানো হামলায় দুই নারী ও এক ১৪ বছর বয়সী শিশু মারা যায়। বুধবার সকালে কিইভের একটি গুদামে পৃথক হামলায় আরেকজন নিহত হন।
আসন্ন শীতের আগে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে রাশিয়া আবার বড় ধরনের আক্রমণ শুরু করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাশিয়া এই বড় হামলার কথা স্বীকার করে দাবি করেছে, তারা কিয়েভে ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তাকারী একটি ডেটা সেন্টার, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ওডেসা অঞ্চলের শিল্প কমপ্লেক্স এবং ইজমাইলের বন্দর অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে।
ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী জানিয়েছে, মস্কো অ্যান্টি-শিপ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ ১৮৮টি ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালায়। এর মধ্যে ৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৫৫টি ড্রোন প্রতিহত করেছে ইউক্রেন।
হামলার পর বুধবার সকালে পুরো কিয়েভ শহর বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট ঘন ধোঁয়া ও ধোঁয়াশায় ঢেকে যায়। জরুরি সেবা সংস্থাগুলো বাসিন্দাদের বাসার জানালা বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে। মেয়র ক্লিটসকো জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী কিইভের কেন্দ্রে অবস্থিত একটি পশ্চিমা দেশের দূতাবাসের প্রাঙ্গণে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে সেটি কোন দেশের নম্বর দূতাবাস, তা তিনি উল্লেখ করেননি।
হামলার তীব্রতা প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। একটি রুশ ড্রোন মলদোভার আকাশসীমায় প্রবেশ করে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় গ্রামের কাছে বিস্ফোরিত হয়। এ ছাড়া পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে সামরিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর দুই সদস্যদেশ রোমানিয়া ও পোল্যান্ড।
অন্য দিকে রাশিয়াতেও হামলা জোরদার করেছে ইউক্রেন। রাশিয়ার সীমান্তবর্তী ব্রায়ানস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন এবং তেল উৎপাদনকারী সামারা অঞ্চলে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় গভর্নরেরা জানিয়েছেন।





