চারপাশে যুদ্ধের আতঙ্ক। বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন ইয়েমেনের পরিবারগুলো। তাইজ প্রদেশের মাফর জেলার ওমর আব্দুল আজিজ স্কুল এখন এমনই বহু বাস্তুচ্যুত পরিবারের আশ্রয়স্থল। কেউ স্কুলের কক্ষে, কেউ আবার তাঁবুতে দিন কাটাচ্ছেন।
৪০ বছর বয়সী জামিল সালেমের গল্পটা আরও হৃদয়বিদারক। আল-কাধা এলাকা থেকে মাফরের দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ সেখানে পৌঁছে যায় হুথি বাহিনী। প্রাণ বাঁচাতে সন্তানদের নিয়ে ছুটতে শুরু করেন সালেম। কিন্তু গোলাগুলি আর বিশৃঙ্খলার মধ্যে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় পরিবার।
ভুক্তোভুগী পরিবার জানান, আমি আমার সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত। আমি তাদের দেখতে চাই। তাদের সঙ্গে দেখা করতে চাই। ইনশাআল্লাহ, আমি তাদের কাছে যাব। কিন্তু সেখানে যাওয়ার মতো সামর্থ্য আমার নেই।
অবশ্য তাইজের দক্ষিণ-পশ্চিমে আল-শাকাদেফ ক্যাম্পেও একই চিত্র। নাবিহা সালেম জানান, সন্তানদের নিয়ে মাকবানা থেকে পালিয়ে এসেছেন তিনি। সঙ্গে ছিল কেবল পরনের পোশাক।
ভুক্তোভুগীরা জানান, আমরা পাঁচটি পরিবার একটি তাঁবুর ভেতরে আছি, এখানে প্রতিটি পরিবারে প্রায় পাঁচজন করে শিশু আছে। আমাদের কোন তোশক, কম্বল এমনকি খাবারও নেই।
২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের রাজধানী নিয়ন্ত্রণ করছে হুথিরা। তবে চলতি মাসে লোহিত সাগর উপকূলের আরও কিছু এলাকা দখলের পর সংঘাত হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীও অভিযান নতুন করে তীব্র হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত তীব্র হওয়ার পর নিহত হয়েছে প্রায় ৭০০ মানুষ। আহত হয়েছেন হাজারো মানুষ। অন্যদিকে গৃহহারা হয়েছেন দেড় লাখেরও বেশি ইয়েমেনের বাসিন্দা।
তবে যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা এসব মানুষের কাছে নিরাপত্তাই এখন সবচেয়ে বড় চাওয়া। তবে ঘর ছেড়ে আশ্রয় নেয়ার পরও তাদের অনেকেই জানে না, কবে আবার পরিবারের সবাই একসঙ্গে হতে পারবেন?





