গণমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধের মধ্যেই ট্রাম্প টিভি চালু করলো হোয়াইট হাউস

ট্রাম্প টিভি
ট্রাম্প টিভি | ছবি: সংগৃহীত
0

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বাড়তে থাকা বিরোধের মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন ও তাদের বিভিন্ন অর্জনের খবর প্রচার করতে ২৪ ঘণ্টার ভিডিও স্ট্রিমিং চ্যানেল ট্রাম্প টিভি চালু করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউস। ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবে সম্প্রচারিত এই চ্যানেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণ ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে।

মূলধারার প্রধান মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠান কাভারেজ (পুল কাভারেজ) বয়কট করার পরই এ পদক্ষেপ নেয়া হল। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের নেতিবাচক খবর প্রকাশের অভিযোগে সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে সংহতি জানিয়ে এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, ফক্স নিউজ ও এনবিসি যৌথভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সব অনুষ্ঠানের টিভি পুল কাভারেজ স্থগিত করে।

এক যৌথ বিবৃতিতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ‘কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের প্রতি আপত্তি জানিয়ে তাদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা কোনো প্রশাসনের উচিত নয়।’

এদিকে ইউটিউবে সম্প্রচার শুরু করা ট্রাম্প টিভি প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউস জানায়, প্রশাসন যেসব বড় কাজ করছে তা এতদিন দর্শকেরা টিভিতে দেখতে পাননি, এখন থেকে এক জায়গায় সব দেখতে পাবেন।

হোয়াইট হাউসের ডিজিটাল কৌশলের প্রধান কেলান ডোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ট্রাম্প টিভিতে প্রশাসনের সাফল্যগুলো সরাসরি দেখানো হবে। কারণ, সংবাদমাধ্যমগুলো আমেরিকানদের স্বার্থে নেয়া প্রশাসনের বিভিন্ন অর্জনের খবর ভুলভাবে বা একেবারেই প্রচার করেনি।

তবে গণমাধ্যম নিষিদ্ধের পরপরই ট্রাম্প টিভি চালুর ঘটনায় কড়া সমালোচনা শুরু হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্রেটিক গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম এই উদ্যোগকে রাষ্ট্র পরিচালিত টিভি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রথমে ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করলেন। আর এখন তিনি স্পষ্টতই রাষ্ট্র পরিচালিত টিভি চালু করেছেন, যা একজন ব্যর্থ প্রেসিডেন্টের স্বৈরাচারী আচরণ।’

অ্যারিজোনার ডেমোক্রেটিক সেনেটর মার্ক কেলি ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অস্বাভাবিক বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের প্রেস সেক্রেটারি স্টিফেনি গ্রিশাম বলেন, রাশিয়া, চীন ও ইরানের মতো দেশগুলো এ ধরনের রাষ্ট্রীয় টিভি পরিচালনা করে থাকে।

সিবিএস নিউজের জ্যেষ্ঠ হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি ওয়েইজিয়া জিয়াং ফক্স নিউজ রোববারের এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে কোনো রাষ্ট্রীয় টিভি থাকতে পারে না। এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল চেতনা পরিপন্থী।’

এএম