বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা ‘টাইগ্রিনো’, বলিভিয়ায় মিললো নতুন প্রজাতির বুনো বিড়াল

বলিভিয়ার বনে বুনো বিড়ালের নতুন প্রজাতির সন্ধান; জীবন্ত সদস্য কেবল একটি
বলিভিয়ার বনে বুনো বিড়ালের নতুন প্রজাতির সন্ধান; জীবন্ত সদস্য কেবল একটি | ছবি: সংগৃহীত
0

বলিভিয়ার গহিন বনে বুনো বিড়ালের নতুন এক প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আকারে দেখতে গৃহপালিত বিড়ালের মতো হলেও ডিএনএ গবেষণায় দেখা গেছে, এটি বুনো বিড়ালের সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রজাতি। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

নতুন আবিষ্কৃত এই প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নাম দেয়া হয়েছে ‘লিওপার্ডাস তিলকায়ো’ (Leopardus tilcayo)। অত্যন্ত বিরল এই প্রজাতির কেবল একটি মাত্র জীবন্ত সদস্যের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পেরেছেন গবেষকরা, যা বলিভিয়ার একটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে সংরক্ষিত রয়েছে। ‘টাইগ্রিনো’ ডাকনামের ১০ বছর বয়সী এই বিড়ালটিকে ছোটবেলায় বন থেকে উদ্ধার করেছিলেন এক স্থানীয় বাসিন্দা। প্রথমে এটিকে সাধারণ গৃহপালিত বিড়ালের ছানা মনে করা হলেও বড় হওয়ার পর এর হিংস্র আচরণে পার্থক্য ধরা পড়ে।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী ‘কারেন্ট বায়োলজি’-তে প্রকাশিত এই গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে গায়ের ডোরাকাটা দাগ ও চিতাবাঘের মতো ছাপের কারণে অন্যান্য ‘টাইগার ক্যাট’-এর সঙ্গে এটিকে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছিল। বলিভিয়া, ব্রাজিল ও যুক্তরাজ্যের একদল বিজ্ঞানী অভয়ারণ্যে থাকা প্রাণীটির রক্ত এবং মিউজিয়ামে রাখা নথির ডিএনএ পরীক্ষা করে নতুন এই প্রজাতির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বনে পাওয়া এই টাইগার ক্যাট প্রজাতিগুলো বন উজাড়, আবাসন সংকট ও শিকারিদের কারণে বিলুপ্তির মুখে রয়েছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. ক্যারোলিন সার্টর জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এই আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো প্রাণীর প্রজাতি বা তার আবাসস্থল না জানলে তাকে রক্ষা করা অসম্ভব। এই নতুন আবিষ্কারের ফলে বিশ্বে বিড়াল পরিবারের (ফেলিডি) প্রাতিষ্ঠানিক প্রজাতি সংখ্যা ৪১ থেকে বেড়ে ৪৪ বা ৪৫টিতে গিয়ে পৌঁছাবে।

এএম