জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা লাখ ছাড়ালো; বয়স্কদের নিয়ে বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ

জাপানের টোকিওতে কর্মব্যস্ত দিনে রাস্তা পার হচ্ছেন অফিসকর্মীরা
জাপানের টোকিওতে কর্মব্যস্ত দিনে রাস্তা পার হচ্ছেন অফিসকর্মীরা | ছবি: রয়টার্স
0

জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো এক লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাপানে শতবর্ষী বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭। এর মাধ্যমে দেশটির মানুষের দীর্ঘায়ুর বিষয়টি যেমন সামনে এসেছে, তেমনি বয়স্কদের চিকিৎসাসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিতে ক্রমবর্ধমান খরচের চাপও স্পষ্ট হয়েছে।

১৯৬৩ সালে যখন এই হিসাব রাখা শুরু হয়, তখন জাপানে শতবর্ষী মানুষ ছিলেন মাত্র ১৫৩ জন। ১৯৯৮ সালে এই সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছায়। আর এখন তা রেকর্ড ছাড়িয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৭২ হাজার। এর মধ্যে জাপানেই এই বয়সীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

জাপানের শতবর্ষীদের মধ্যে প্রায় ৮৮ শতাংশই নারী। ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান ও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার শিকার কম হওয়ার কারণেই নারীরা বেশি দিন বাঁচেন বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

বিপুলসংখ্যক এই বয়স্ক মানুষের কারণে জাপানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে। দেশটির প্রায় চার কোটি মানুষ (প্রতি তিনজনে একজন) এখন সরকারি পেনশন পান। বয়স্কদের পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য বিশাল অঙ্কের অর্থ জোগান দিতে হচ্ছে। অথচ এসব সুবিধা নিশ্চিত করতে যে কর্মক্ষম জনশক্তি প্রয়োজন, তা দেশটিতে ধারাবাহিকভাবে কমছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে ১০০ বছর পার করা এসব মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। অনেকেই কারাওকে গান গেয়ে বা গ্রাউন্ড গলফ খেলে সময় কাটান। কেউ কেউ তরুণদের কাছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি তুলে ধরেন। আবার কয়েকজন এখনো কৃষিকাজসহ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত আছেন। সম্প্রচারমাধ্যম টিভি আসাহির তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে ১০০ বছরে পা দেওয়া ফুকুকো ইশিই বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক টিভি প্রযোজক। আর দেশের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হলেন কিয়োটো শহরের ১১৪ বছর বয়সী এক নারী।

বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়লেও জাপানে জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জাপানে জন্মহার টানা দশম বছরের মতো কমেছে, যা ১৯৪৭ সালের পর সর্বনিম্ন। ২০২৫ সালে দেশটিতে প্রায় ৬ লাখ ৭১ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে। বিপরীতে মারা গেছেন প্রায় ১৫ লাখ ৯০ হাজার মানুষ।

এই বয়স্ক জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আগামী অর্থবছরের বাজেটে পেনশন ও চিকিৎসাসেবার জন্য ৩৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ইয়েন বরাদ্দ চেয়েছে। প্রবীণদের সেবার জন্য ২০২৬ সাল নাগাদ জাপানে প্রায় ২৪ লাখ স্বাস্থ্যকর্মীর প্রয়োজন হবে, যা ২০২৪ সালে ছিল ২১ লাখ।

এই সংকট মোকাবিলায় জাপান বিদেশি সেবাকর্মী নিয়োগ বাড়িয়েছে। নতুন কর্মসূচির আওতায় ১ লাখ ৬০ হাজার ৭০০ জন বিদেশি কর্মীকে কাজের সুযোগ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ আরও অনেক দেশ ভবিষ্যতে একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

এএম