গত সপ্তাহে হুথিরা উপকূলীয় মোখা ও ধুবাব শহর দখলের পর সাগরের কৌশলগত মায়্যুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর মাধ্যমে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত ১৮ মাইল প্রশস্ত এই নৌপথে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করল গোষ্ঠীটি। জাতিসংঘের তথ্যমতে, বৈশ্বিক সমুদ্র বাণিজ্যের প্রায় ৮.৭ শতাংশ এবং মোট অপরিশোধিত তেলের ১৩ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
তেল আবিবের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ইরান বিশেষজ্ঞ ডেনিস সিট্রিনোউইচ বলেন, ‘এটি ইরান ও হুথিদের জন্য একটি বড় এবং প্রায় অভূতপূর্ব কৌশলগত সাফল্য। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের অর্থনৈতিক মূল্য বাড়াতে তেহরান যখন চেষ্টা করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে হুথিদের এই অগ্রগতি ইরানকে বিরাট বাড়তি সুবিধা এনে দিল।’
হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার মধ্যে বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের অবস্থান এবং সম্প্রতি সৌদির ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কিছুটা নমনীয় সুর মিলিয়ে ট্রাম্প জানান, হুথিরা তার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়েছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত চায় না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের এই আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।





