ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বাড়ানোর সতর্কবার্তা ফাঁস; সিপ্রানেট থেকে নথি সরালো পেন্টাগন

পেন্টাগন
পেন্টাগন | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার ঝুঁকি নিয়ে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্বেগের খবর ফাঁসের পর একটি গোপন সামরিক নেটওয়ার্ক থেকে কয়েক দশকের গোপন নথি সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। গতকাল (বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সিক্রেট ইন্টারনেট প্রোটোকল রাউটার নেটওয়ার্ক বা সিপ্রানেটের অভ্যন্তরীণ পোর্টাল থেকে ‘সেক্রেটারি অব ডিফেন্স অর্ডারস বুক’ সংক্রান্ত নথিগুলো সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এই নেটওয়ার্কটি সাধারণত অনুমোদিত মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা গোপনীয় তথ্য আদান-প্রদানে ব্যবহার করে থাকেন। নথিগুলো পুরোপুরি মুছে ফেলা হয়েছে নাকি আরও উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত ব্যবস্থায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল সিপ্রানেট থেকে নথি সরানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য না দিলেও ঘটনাটি অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ পরিচালনগত প্রক্রিয়া বা নির্দেশিকা ব্যবহারের বিষয়ে পেন্টাগন প্রকাশ্যে কোনো আলোচনা করে না।’

অর্ডারস বুকে মূলত মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবস্থান ও তাদের যুদ্ধপ্রস্তুতির নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য থাকে। এতে শীর্ষ অধিনায়কদের কোনো আদেশের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অসম্মতি জানানোর সুযোগ থাকে।

এর আগে গত রোববার দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেউইচ, জেনারেল ফ্রান্সিস ডনোভান, অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল পাপারো এবং অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল নামের চার জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বাড়ানোর ঝুঁকি নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে সতর্ক করেছিলেন।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে পেন্টাগনের মুখপাত্র জানান, গোপন নথি প্রকাশ করা একটি অপরাধ। এর জবাবে ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক ড্যান লামোথ বলেন, ‘স্বাধীন সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়।’ সিপ্রানেট থেকে এসব নথি সরিয়ে নেয়ার ফলে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের কাছে তথ্য পৌঁছাতে দেরি হতে পারে এবং জরুরি সামরিক পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সাবেক এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা।

—ওয়াশিংটন পোস্টের অবলম্বনে

এএম