ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: তেল সরবরাহ বন্ধ ও সাইবার হামলার ঝুঁকি

তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে নিয়ে আঁকা দেয়ালচিত্রের পাশ দিয়ে হাঁটছেন মানুষ
তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে নিয়ে আঁকা দেয়ালচিত্রের পাশ দিয়ে হাঁটছেন মানুষ | ছবি: রয়টার্স
0

ছয় মাস ধরে চলা অচলাবস্থার মধ্যে ইরানে নতুন করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাকে থাকা মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। তবে এই সংঘাত আরও তীব্র হলে কিংবা ইরানের অর্থনীতি ধ্বংস করার মার্কিন তৎপরতা বাড়লে দেশটির সামনে আরও কয়েকটি উপায়ে পাল্টা আঘাত হানার সুযোগ রয়েছে। ডেকান হেরাল্ডের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে আঘাত হানার পরিধি বাড়াতে পারে তেহরান। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি এসব দেশের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে আসছে ইরান। নতুন করে তেল ও গ্যাস উত্তোলন কেন্দ্রে সরাসরি হামলা চালানো হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম মারাত্মকভাবে বেড়ে যাবে, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি এ অঞ্চলের পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত এলে উপসাগরীয় দেশগুলোর সামগ্রিক অর্থনীতিতে ধস নামার ঝুঁকি রয়েছে।

তেহরানের আরেকটি বড় কৌশল হতে পারে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব ও রেভল্যুশনারি গার্ডসের সাবেক প্রধান মোহসেন রেজায়ি ইতিমধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, অর্থনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে এক ফোঁটা তেলও বের হতে দেয়া হবে না। হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে ইরান ও তাদের মিত্র হুথিদের হামলার কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ইতিমধ্যে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এছাড়া পশ্চিমা দেশগুলোতে সরাসরি প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো সম্ভব না হলেও বিকল্প পথে আঘাত হানতে পারে রেভল্যুশনারি গার্ডস। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে বিদ্যুৎ গ্রিডে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় পানি সরবরাহ কেন্দ্রে সাইবার হামলার পেছনে ইরান জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করেছে দেশ দুটি। তবে এসব অভিযোগ সবসময় অস্বীকার করে আসছে তেহরান।

এএম